ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক – রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গত শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে ৬৮১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহে দেশটির রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৬৮৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার।
সপ্তাহ ব্যবধানে রিজার্ভে সাড়ে ৭ দশমিক বিলিয়ন ডলারের এই বড় পতনের প্রধান কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকা স্বর্ণের মজুদের মূল্য সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাওয়া। একই সঙ্গে আরবিআই-এর বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের (ফরেন কারেন্সি অ্যাসেট) মূল্যও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সংকুচিত হয়ে ৫৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
ডলারের হিসাবে প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের এই পরিবর্তনের মধ্যে রিজার্ভে থাকা অন্যান্য বৈশ্বিক মুদ্রার মান বৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃশ্যপটেও ফেলেছে অনিশ্চয়তার ছাপ। এমন অবস্থায়, দেশটি থেকে বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটছে। এর ফলে চরম চাপের মুখে পড়া স্থানীয় মুদ্রা রুপির মান ধরে রাখতে আরবিআই খোলাবাজারে ক্রমাগত ডলার বিক্রি করে আসছে। এরপরেও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আলোচ্য সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে রুপির মান রেকর্ড তলানিতে নেমে প্রতি ডলার ৯৬ দশমিক ৯৬ রুপিতে পৌঁছায়। তবে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সেশনে আরবিআই-এর শক্ত ও জোরালো হস্তক্ষেপের কারণে রুপির এই বড় পতন ঠেকানো এবং এর মান টেনে তোলা সম্ভব হয়।
সপ্তাহ শেষে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৫-এ এসে স্থির হয়, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, ভারতের এই বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) থাকা দেশটির 'রিজার্ভ ট্রাঞ্চ পজিশন'-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।