ইরানের পর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের পরবর্তী যুদ্ধ সম্ভবত তুরস্ক এবং মিসরের বিরুদ্ধে হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন আলোচিত ইসরায়েলি-আমেরিকান গুপ্তচর জোনাথন পোলার্ড। এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেল আবিবকে এই আসন্ন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'আরুতজ শেভা'-র একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোলার্ড বলেন, 'ইরানিদের সঙ্গে আমাদের সময়টা যতটা সহজে কেটেছে, তুর্কিদের সঙ্গে ততটা সহজ হবে কি না তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।'
তিনি সতর্ক করে বলেন, 'আমাদের পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যা সম্ভবত তুরস্ক এবং মিসরের বিরুদ্ধে হবে। ঝড় আসছে।'
সিরিয়ায় তুরস্ক-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দক্ষিণ অঞ্চলের বেদখল হওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করার সুযোগ দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন পোলার্ড। তিনি বলেন, এমনটা হলে কার্যত 'আমাদের সীমান্তে তুর্কিরা' অবস্থান নেবে।
কে এই জোনাথন পোলার্ড?
১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করার অপরাধে জোনাথন পোলার্ডকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যান এবং দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ইসরায়েলে আসার পর থেকেই তিনি অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতমার বেন গভিরের কট্টর সমর্থক ও বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের পক্ষেও তার অবস্থান রয়েছে।
কয়েক দশক ধরে মিসর ও তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও গাজায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে তা চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
১৯৪৯ সালে প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে তুরস্ক ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে ২০১০ সালে গাজায় ত্রাণবাহী তুর্কি জাহাজ 'মাভি মারমারা'য় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১০ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার প্রথম ঐতিহাসিক বৈঠকটির পর সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলা এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর সেই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেস্তে যায়। এমনকি গত মার্চে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট তুরস্ককে সম্ভাব্য 'পরবর্তী ইরান' হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।
অন্যদিকে, মিসরের সঙ্গে কয়েক দফা যুদ্ধের পর ১৯৭৯ সালে একটি শান্তি চুক্তি সই করে ইসরায়েল, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।
পোলার্ড পডকাস্টে বলেন যে তিনি 'আশা' করেন ইসরায়েল যেন মিসর বা তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়ায়, তবে কেবল আশার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন এই সাবেক গুপ্তচর।