শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬, ০৬:১৩ বিকাল
আপডেট : ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঈদে বেশি মাংস নয়, গুরুত্ব দিন সুষম খাদ্যাভ্যাসে

কুরবানির ঈদ মানেই আনন্দ, অতিথি আপ্যায়ন আর বাহারি রকমের মাংসের রান্না। গরু বা খাসির মাংসের নানা পদ ছাড়া যেন  ঈদের উৎসব পূর্ণতা পায় না। 

তবে আনন্দের এই সময়ে অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া অনেকের জন্য ডেকে আনে গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি। 

advertisement

 ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হলে খাবারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও পরিমিতিবোধ সবচেয়ে জরুরি।

 একসঙ্গে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

advertisement

ঈদের সময় অনেকেই সকাল, দুপুর ও রাতে মাংসজাত খাবার খান। এতে শরীরে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল জমে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মাংস না খাওয়াই ভালো।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৭৫ থেকে ১২০ গ্রাম রান্না করা মাংস যথেষ্ট। মাংসের পাশাপাশি শাকসবজি, সালাদ ও পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে।

advertisement

ঈদের সময়ে অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ভাজাপোড়া খাবার হজমের সমস্যা বাড়ায়। তাই রান্নায় তেল কম ব্যবহার এবং নিয়মিত হাঁটাচলা জরুরি।

সুস্থ থাকতে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি

 ১। পরিমিত মাংস খেতে হবে 

এক বেলায় অতিরিক্ত মাংস না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো। একই দিনে গরু ও খাসির মাংস দুটোই বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।

২। চর্বিযুক্ত অংশ কম খেতে হবে

মাংস রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি ফেলে দিলে ফ্যাটের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। ভুঁড়ি, কলিজা ও মগজের মতো খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

৩। খাবারের তালিকায় সবজি ও সালাদ রাখুন

শুধু মাংস নয়, প্রতিদিনের খাবারে শসা, টমেটো, গাজর, শাকসবজি ও ডাল রাখুন। এতে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে। 

৪। পর্যাপ্ত পানি পান করুন

একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দৈনিক আড়াই থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। 

অনেকেই ঈদের ব্যস্ততায় পানি কম পান করেন। অথচ অতিরিক্ত প্রোটিনজাত খাবার খেলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে। 

৫। কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে 

অতিরিক্ত সফট ড্রিংক বা মিষ্টিজাত পানীয় ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি খেতে হবে

৬। হাঁটাচলা করুন

খাওয়ার পর সারাদিন বসে না থেকে হালকা হাঁটাচলা করলে খাবার হজম সহজ হয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। 

শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

শিশুদের অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ঝাল মাংস না দেওয়াই ভালো। একইভাবে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের খাবারে লবণ ও তেলের পরিমাণ কম রাখতে হবে। যাদের কিডনি বা হৃদরোগ আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাদ্যতালিকা ঠিক করা উচিত।

রান্নার ক্ষেত্রেও দরকার সচেতনতা

অতিরিক্ত  মসলা ও তেলযুক্ত রান্নার বদলে ঝোল বা গ্রিল করা খাবার তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর। বারবার গরম করা মাংসও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন সবাই সুস্থভাবে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। তাই কুরবানির ঈদে মাংস খাওয়া হোক আনন্দের, কিন্তু তা যেন না হয় অসুস্থতার কারণ। পরিমিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই পারে ঈদের আনন্দকে সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে।

  • সর্বশেষ