সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরের একটি আবাসিক ভবনে ভারতীয় এক প্রবাসী নারী এবং তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ওই নারীর স্বামীকে আটক করেছে আমিরাতের পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভবনের কর্মীদের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী ওই মা প্রথমে তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে উঁচু ভবনের জানালা বা ব্যালকনি থেকে নিচে ফেলে দেন। এরপর তিনি নিজেও ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি শারজাহর আল নাহদা এলাকায় গত বুধবার সকাল প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে।
গালফ নিউজ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের ভবনটি ৩২ তলা উঁচু এবং নিচে পার্কিং ও জিমসহ বিভিন্ন স্তর থাকায়, নিহতরা আনুমানিক ২২ তলা উচ্চতা থেকে নিচে পড়ে যান।
ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী জানান, তিনি একটি জোরে শব্দ শুনে দ্রুত বাইরে যান। তখন শিশুটিকে রাস্তায় ও মাকে ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেন।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনার আগের দিনই পুলিশ পারিবারিক বিরোধের অভিযোগে ভবনে গিয়েছিল। নিরাপত্তা কর্মী জানান, স্বামী তাকে জানিয়েছিলেন যে তার স্ত্রী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
নিহত নারীর স্বামী দুবাইয়ে একটি এয়ারক্রাফট রিসোর্স অ্যালোকেশন অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পরিচিতদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কেরালার এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। তারা সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই ভবনের একই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন।
ভবনের অন্য বাসিন্দারা জানান, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সংযুক্ত আরব আমিরাতেই থাকেন। নিহত নারী অনলাইনে একটি ব্যবসাও পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেশীরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন। ভবনের নিরাপত্তা কর্মী শিশুটিকে নিয়ে আবেগপ্রবণ স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় সে তাকে হাসিমুখে হাত নেড়ে বিদায় জানাত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারজাহ পুলিশ আগেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। তদন্তের জন্য পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠিয়েছে।