ইরানের ঊর্ধতন একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রোববার (২৪ মে) বলেছে, তেহরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়নি। এ ছাড়া সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার অংশ নয়। বরং চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় এই ইস্যু তোলা হবে। সূত্রটি বলেছে, পারমাণবিক ইস্যুটি চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনায় নিষ্পত্তি করা হবে, তাই এটি বর্তমান চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশ থেকে বাইরে পাঠানোর ব্যাপারেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বিদেশে সরিয়ে নিতে হবে। তবে ইরান বারবার জানিয়ে আসছে, তারা ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই হস্তান্তর করবে না। গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক নির্দেশনায় জানান, নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই বিদেশে পাঠানো যাবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি একটি সূত্র বলেছে, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য হলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। এ কারণে দেশ দুইটির মধ্যে প্রাথমিকভাবে চুক্তি হওয়ার যে সম্ভাব্য সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে- তাতে একপ্রকার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ ইরানের কিছু সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি নিয়ে এখনো মতভেদ রয়ে গেছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে প্রাথমিক খসড়া সমঝোতার আলোচনা চলছে, সেখানে তেহরান তাদের কোনো ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।