পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেন লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
আজ রোববার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য রয়েছেন।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ট্রেনের একটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগি কাত হয়ে পড়ে আছে এবং লোকজন ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া প্রহরার মধ্যে লাইনচ্যুত বগিটি থেকে হতাহতদের স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সেনাসদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রেনটি কোয়েটা থেকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, ট্রেনটি কোয়েটার চমন পাত্তাক এলাকার একটি সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি ট্রেনের একটি বগিকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে শক্তিশালী এই বিস্ফোরণটি ঘটে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং কাছাকাছি থাকা অন্যান্য যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্য এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঈদের ছুটি উদযাপনের জন্য সেনাসদস্যরা বাড়িতে যাচ্ছিলেন।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র এবং আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রদেশ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রায় প্রতিটি সূচকেই এটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে।
বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার স্থানীয় জনগণের কোনো উন্নয়ন না করেই এই প্রদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস এবং প্রচুর খনিজ সম্পদ শোষণ করছে।
হামলাস্থলের কাছেই থাকা মোহাম্মদ রহিম এএফপিকে জানান, বিস্ফোরণে যখন এলাকা কেঁপে ওঠে তখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, প্রচণ্ড শব্দ শুনে আমি এবং আমার পরিবার বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠি। আমি ভবনের ভেতরে আমার পরিবারসহ নারী ও শিশুদের চিৎকার এবং কান্নার শব্দ শুনতে পাই।
আব্দুল বাসিত নামে আরেক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, তিনি যখন বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন, তখন সকালের নাস্তা কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, মানুষজন আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে।
মুজিব আহমদ নামে আরেক ব্যক্তি জানান, এই বিস্ফোরণে তার গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন বিস্ফোরণটি ঘটল, আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি কোনো হামলা। আমি ভবন থেকে বেরিয়ে এসে ধ্বংসলীলা দেখতে পাই এবং দেখি আমার গাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, হামলায় ব্যবহৃত আইইডির (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ওজন ছিল প্রায় ৩৫ কেজি (৭৭ পাউন্ড)। পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে।