শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ০২:৪৩ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঋণের বোঝা ও জীবিকা হারানোর শঙ্কা

কুরবানির আগে নতুন নিয়মে বিপাকে পশ্চিমবঙ্গের ঘোষপাড়ার হিন্দু খামারিরা: ‘মুসলমানরা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরাই’

আসন্ন ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের ঘোষপাড়ার গবাদি পশু খামারিরা। সরকারের পক্ষ থেকে গরুর বয়স ও বিক্রি সংক্রান্ত নতুন আইনি কড়াকড়ির কারণে স্থানীয় পাইকারি বাজারে ধস নেমেছে। খামারিদের দাবি, ভরা মৌসুমে কুরবানির পশু বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের মতো সাধারণ হিন্দু ব্যবসায়ী ও খামারি পরিবারগুলো।

ঋণের বোঝা ও জীবিকা হারানোর শঙ্কা

advertisement

পশ্চিমবঙ্গের ঘোষপাড়ার প্রায় প্রতিটি পরিবারই বংশানুক্রমিকভাবে দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে দুগ্ধ উৎপাদন এবং কুরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে গরু মোটাতাজাকরণের ব্যবসা করে আসছেন। খামারিদের অভিযোগ, এবার একেকজন ব্যবসায়ী ১৫ থেকে শুরু করে ৩৫-৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক, স্বর্ণ বা স্থানীয় ভুষির দোকান থেকে ঋণ নিয়ে এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

নতুন সরকারি বিধিনিষেধের কারণে গত কয়েকদিন ধরে কোনো ক্রেতা বা পাইকার খামারে আসছেন না। এমনকি যারা আগে অগ্রিম টাকা দিয়ে গবাদি পশু বায়না করেছিলেন, রাস্তায় পুলিশি ঝামেলা ও হেনস্থার ভয়ে তারাও এখন বায়নার টাকা ফেরত চাচ্ছেন। এই অবস্থায় মূলধন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু খামারি।

advertisement

১৪ বছরের সার্টিফিকেট’ ও জন্মনিবন্ধন বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের খামারিরা জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১৪ বছর বয়স না হলে কোনো গরু বিক্রি বা জবাই করা যাবে না এবং এর জন্য গবাদি পশুর নির্দিষ্ট 'জন্ম সার্টিফিকেট' বা প্রমাণপত্র লাগবে। খামারিদের প্রশ্ন, মানুষের জন্ম নিবন্ধন বা সার্টিফিকেট থাকলেও, একটি গরুর জন্ম সার্টিফিকেট খামারিরা কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন? তাছাড়া বর্তমান সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে লাঙল দিয়ে চাষের প্রচলন না থাকায়, কোনো চাষী বা খামারি ৮-৯ বছরের বেশি বয়সের গরু সাধারণত পালন করেন না।

advertisement

অনাহারে গবাদি পশু, অচল খামার

আর্থিক সংকটের কারণে খামারের পশুগুলোকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ভুষি ও খড়ের দোকানে লাখ লাখ টাকা বাকি পড়ে থাকায় বিক্রেতারা আর নতুন করে বাকিতে খাবার দিচ্ছেন না। খামারিদের বক্তব্য, নিজেদের সংসার চালানোই যেখানে কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে খামারের পশুর পেছনে প্রতিদিন বিপুল টাকা খরচ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দ্রুত সমাধান না হলে পশুগুলো অনাহারে মারা যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পুনর্বাসনের দাবি

ঘোষপাড়ার খামারিদের মতে, তারা এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে অত্যন্ত মিলেমিশে দীর্ঘ বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছেন। কুরবানির পশু বেচাকেনা নিয়ে তাদের মধ্যে কখনোই কোনো সাম্প্রদায়িক বিবাদ ছিল না।

খামারিদের দাবি, যদি এই ধরনের কোনো নিয়ম বা নিষেধাজ্ঞা জারি করতেই হতো, তবে অন্তত ৬ মাস বা এক বছর আগে তাদের জানানো উচিত ছিল। বিক্রির ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে তারা পুরোপুরি দেউলিয়া হওয়ার পথে। খামারিদের দাবি, সরকার যেন ধানের মতো খামারিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে এই সমস্ত গরু কিনে নেয় অথবা এই বছরের জন্য নিয়মটি শিথিল করে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়। অন্যথায় গবাদি পশু নিয়ে রাজ্য সরকারের সদর দফতর 'নবান্ন' অভিমুখে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

  • সর্বশেষ