শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইতিহাস গড়া বাজেট, লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ◈ ৪৮ দলের মহারণ, আজ পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের ◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৮ দুপুর
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডেডলাইন শেষেই কি বৈশ্বিক বিপর্যয়? ইরানের সম্ভাব্য ৫ পদক্ষেপ

ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা চুক্তিতে আসার সময়সীমা দিয়েছেন। না হলে ইরানের অবকাঠামোতে বিধ্বংসী হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তেহরান নমনীয় হওয়ার কোনো ইঙ্গিতই দেয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ইরান কোনো সাধারণ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেবে না, যেমনটা আগেও তারা করেননি। তেহরানের কৌশল হলো ‘লেয়ার্ড এসিমেট্রি’ বা যুদ্ধের মূল্য এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হরমুজ অবরোধ করলে ইরান এই পাঁচটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে—

১। বিশ্বকে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা দেওয়া

ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তার ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালিতে স্মার্ট মাইন ও জিপিএস জ্যামিং দিয়ে ইরান পুরো রুটটিকে ‘কিল জোন’ বানিয়ে বিপজ্জনক করে রেখেছে। যার ফলে ইতোমধ্যে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়েছে। এখানে একটি ট্যাংকারও ডুবলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর বাইরে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ফাইবার অপটিক ক্যাবল ইরানের নিশানায় আছে। সেসব কেটে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না একেবারেই। এগুলো কাটা হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও তথ্য আদান-প্রদান ভেঙে পড়বে। যাকে ‘ডিজিটাল আরমাগেডন’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে এখন।

২। তেলের আঞ্চলিক অবকাঠামো ধ্বংস

ইরানের নীতি হলো ‘আমরা তেল না বেচতে না পারলে কেউ বেচতে পারবে না।’ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্য। এগুলো আঘাত পেলে বড় উপসাগরীয় শহরগুলোতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি সংকট দেখা দেবে।

৩। সাইবার যুদ্ধ 

ইরানের ‘হান্দালা’ গ্রুপের মতো দলগুলো ইতোমধ্যে সক্রিয়। এরা মার্কিন বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় হামলা করতে পারে। জাহাজের জিপিএস সংকেত পাল্টে দিয়ে সংঘর্ষ ঘটানোর সক্ষমতাও তাদের আছে।

৪। ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ – এর ব্যবহার

ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদেরও মাঠে নামাতে পারে। ইরাক ও সিরিয়া থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা, ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগর বন্ধ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মাধ্যমে ইসরায়েলের উত্তরে হামলা একসাথে হতে পারে।

৫। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সাম্রাজ্যে ফাটল ধরানো

চীন, রাশিয়া, পাকিস্তানের জাহাজগুলোকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দিতে পারে ইরান। যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোটে ফাটল ধরতে পারে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে অবস্থান নিতে এই দেশগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। 

ইরানের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হারানো নয়। লক্ষ্য হলো মার্কিন জয়কে এতটাই ব্যয়বহুল করে তোলা যাতে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে এই ডেডলাইন হলে বৈশ্বিক বিপর্যয়ের শঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়