উত্তর-পূর্ব দিল্লির দয়ালপুরে গতকাল বুধবার রাতে ১৬ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত কিশোরের নাম সুভান মালিক। তিনি একজন কুরআনের হাফেজ। তাকে নেহেরু বিহার এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুভানের বাবা দিলশাদ মালিক জানান, তাঁর ছেলে রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর পরিবার হামলার খবর পায়।
তিনি বলেন, “সে আমার ছেলে, সুভান মালিক। ৩-৪ জন ছেলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। ও রাত ৮টায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমরা জানতে পারি যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আমার ছেলের জন্য বিচার চাই। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।” শোকাতুর কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তারা যদি ওকে মারধর করত, আমি হয়তো ক্ষমা করে দিতাম। কিন্তু এটি ক্ষমা করা যায় না; তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান যে, সুভান একজন হাফেজে কুরআন ছিলেন এবং কারও সাথে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল না। “কারও সাথে তার শত্রুতা ছিল না। জানি না কী অজুহাতে তারা আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল,” বলেন তিনি।
নিহতের মা শাবানা দাবি করেছেন যে, হামলাকারীরা সুভানের পরিচিত ছিল।তিনি বলেন, “আমার বাচ্চাকে বিনা কারণে মেরে ফেলা হলো। যারা হামলা করেছে তারা ওর পরিচিত ছিল। তারা প্রথমে ওকে জড়িয়ে ধরে এবং তারপর খুন করে।”মায়ের এই বয়ান তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সুভান হয়তো আক্রমণকারীদের বিশ্বাস করত।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী তিন কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে যে নিহত সুভান তাদের একজনকে হেনস্থা করত। এই দাবির সত্যতা যাচাই করে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধে ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
সুভানকে নেহেরু বিহারের একটি গলিতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তাকে জগ প্রবেশ চন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
একটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেছে এবং ঘটনার ক্রমবিন্যাস নিশ্চিত করতে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ইনকিলাব