পার্সটুডে: ইরানের নীতি-নির্ধারণি পরিষদের সদস্য ও আইআরজিসি বা ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের কোনও অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে ইরানের জবাব হবে এতই ধ্বংসাত্মক যে তাতে শত্রুরা অচল হয়ে পড়বে এবং তারা পারস্য উপসাগরে ডুবে যাবে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ-অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকি দেয়ার পর আজ (মঙ্গলবার) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে রেজায়ি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, 'তারা যদি ভুল করে তাহলে আমরা পারস্য উপসাগরে তাদের ডুবিয়ে দেব তাদেরকে অচল করে দেয়ার পর'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমস্ত ক্ষতিপূরণ না নেয়া পর্যন্ত চলমান যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন। ইরানের ওপর সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং ইরানের বিষয়ে মার্কিন সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না ও আর কখনও ইরানে হামলা চালাবে না-এই মর্মে আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা আদায় করাও যুদ্ধ বন্ধের অন্যতম শর্ত বলে রেজায়ি উল্লেখ করেছেন।
মোহসেন রেজায়ি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, 'তাকে বলব যে যদি আঘাত কর তাহলে চোখের বদলে চোখ নয়, চোখের বদলে মাথা নেয়া হবে এবং পারস্য উপসাগরে ডুবিয়ে দেয়া হবে'।
রেজায়ি বলেছেন, 'তাদের জানা উচিত যে মার্কিনিদের রক্ষার সময়-সীমা শেষ হয়ে আসছে এবং এই অচলাবস্থা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য তাদের বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের হাতে সময় খুব কমই রয়েছে'।
রেজায়ি ইরানি জনগণের বর্তমান ঐক্য ও বিস্ময়কর প্রতিরোধকে 'তৃতীয় বিপ্লব' বলে অভিহিত করেছেন।
শিগগিরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মধ্যে মারাত্মক বিভক্তি ও মতবিরোধ দেখা দিবে বলে উল্লেখ করে ইরানের নীতি-নির্ধারণি পরিষদের অন্যতম সদস্য বলেছেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে নিজের অনুসারী করেছেন এবং প্রথমদিকে তাদের সামরিক পরিকল্পনা একই ধরনের ছিল না। রেজায়ির বক্তব্য অনুযায়ী মার্কিন সরকার প্রথমে সীমিত মাত্রার ও পর্যায়ক্রমিক যুদ্ধে জড়াতে চেয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়, ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে ও সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, অন্যথায় ট্রাম্প যুদ্ধের ১২ দিনের মাথায় যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণা করত।
রেজায়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ডাবলিও বুশের শাসনামলের পার মার্কিন-ইহুদিবাদী নোংরা ধারার উত্থানের ইতিহাস তুলে ধরে বলেছেন, ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন ও ইহুদিবাদী পুঁজিপতিদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই ধারা সর্বোচ্চ শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে, অথচ বুশের সময় ইসরায়েলের ওপর মার্কিন কর্তৃত্ব বজায় ছিল আর এখন ট্রাম্প ইসরায়েলকে অনুসরণ করে এক নতজানু দাসের মতই।
তাঁর মতে ইসরায়েল নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত 'বৃহত্তর ইসরায়েল' গড়ার অপচেষ্টা করছে এবং অন্যদিকে মার্কিন সরকার বৈশ্বিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। মার্কিন-ইসরায়েলি ধারা সহিংস ইহুদিবাদী বর্ণবাদ ও আন্তর্জাতিক হঠকারিতা জোরদারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আগ্রাসী-উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের আওতায় রয়েছে কানাডা এবং গ্রিনল্যান্ড থেকে ভেনিজুয়েলা পর্যন্ত।
রেজায়ি বলেছেন, তারা এখন সর্বোচ্চ শক্তিধর বলে ভাবছে নিজেদের এবং ইরানের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে চায়। তিনি আরব দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'ওদের ষড়যন্ত্র কেবল ইরান পর্যন্ত সীমিত নয়, বরং গোটা অঞ্চল গ্রাসই তাদের লক্ষ্য; যদি আরব সরকারগুলো জানত যে এ অঞ্চলে তাদের অশুভ পরিকল্পনার স্বরূপ কী তাহলে তারা আজ আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করত'।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনও ধরনের উস্কানি ছাড়াই পরমাণু বিষয়ে পরোক্ষ সংলাপ চলার অবকাশে ইরানের ওপর আগ্রাসন শুরু করে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ-পদস্থ সামরিক কমান্ডার ও শত শত শিশুসহ বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোকে টার্গেট করে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে শত শত বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।