শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৮:১৯ রাত
আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিটকয়েন মাইনিং আর বিশেষ শহর গড়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চায় ভুটান

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ভুটান একসময় তার ‘সর্বজনীন সুখের সূচক’ বা গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেসের (জিএনএইচ) জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল।

তবে বর্তমানে দেশটি এক কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেধাবী তরুণদের বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা ঠেকাতে এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এখন এক আধুনিক কৌশল গ্রহণ করেছে ভুটান। দেশটি নিজস্ব বিটকয়েন মাইনিং এবং একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল বা এসএআর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে’ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে দেশটির এ নতুন ভিশন তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভুটান তার বিশাল নদীপথ ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। এ গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করা হবে প্রস্তাবিত ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ বিনির্মাণে।

একই সঙ্গে এ বিদ্যুৎ দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তির প্রসারে কাজ করবে দেশটি। মূলত জলবিদ্যুৎ ও পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ ভুটানে। রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের উদ্যোগে নেয়া এ পরিবেশবান্ধব নগর প্রকল্প আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সাজানো হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য সিঙ্গাপুরের কোম্পানি আইনের আদলে এখানে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি এ অঞ্চলের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিচার বিভাগ থাকবে এবং অন্তত ২০ বছর এটি আইনি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। এ প্রকল্পের অন্যতম চমকপ্রদ দিক হলো ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার। ভুটান সরকার ২০১৯ সাল থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিটকয়েন মাইনিং বা ডিজিটাল মুদ্রা উৎপাদন করে আসছে। বিটকয়েন মাইনিংয়ের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।

হিমালয়ের দেশ হওয়ায় ভুটানে প্রচুর সস্তা ও পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ পাওয়া যায়, যা বিটকয়েন উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এ ডিজিটাল মুদ্রাকে ভুটান তাদের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ‘লাইফলাইন’ বা রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছে। করোনা মহামারীর কারণে পর্যটন খাতে ধস নামায় ভুটানের রাজস্ব আয় ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায় এবং তারা কাজের খোঁজে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চলে যেতে শুরু করে। এ সংকট মোকাবেলায় সরকার গেলেফুতে একটি ‘ফিনটেক হাব’ বা আর্থিক প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। —খবর নিক্কেই এশিয়া

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়