যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত নতুন অভিবাসন আইন কার্যকরের আগেই দ্বৈত নাগরিকদের জন্য একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী বুধবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মে দ্বৈত নাগরিকদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হলেও, বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এয়ারলাইনস বা পরিবহন সংস্থাগুলো চাইলে তাদের নিজস্ব বিবেচনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট দেখে যাত্রীদের বোর্ডিং পাস দিতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিক বড় ধরণের ভ্রমণ জটিলতা থেকে রেহাই পেতে পারেন।
যুক্তরাজ্য সরকার আগামী সপ্তাহ থেকে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিক যদি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ৫৯৮ পাউন্ড ব্যয়ে সংগ্রহ করা ‘সার্টিফিকেট অফ এনটাইটেলমেন্ট’ দেখাতে হবে।
এতদিন যারা বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করতেন, তাদের জন্য এই নিয়মটি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের। বিশেষ করে যাদের ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা বিদেশে আটকে পড়ার শঙ্কায় ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এয়ারলাইনসগুলো চাইলে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে পরিবহন সংস্থার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এছাড়া যাদের জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে ফিরতে হবে এবং আগে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছিল, তারা ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বা জরুরি ভ্রমণ নথির জন্যও আবেদন করতে পারবেন। বর্ডার ফোর্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে যাত্রীদের নাগরিকত্ব যাচাই করার চূড়ান্ত ক্ষমতা তাদের হাতেই থাকবে।
এই নতুন নিয়মটি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা এই নিয়ম কার্যকরের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে মানুষ তাদের পাসপোর্ট নবায়ন করার সুযোগ পায়।
অনেক দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করেছেন যে, তারা হঠাৎ করে এই নিয়ম চালু হওয়ায় বিয়ে, জানাজা বা অসুস্থ আত্মীয়দের দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে ব্রিটিশ ও আইরিশ দ্বৈত নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই সরকার ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯১৭ সালের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য পাসপোর্ট বৈধ হওয়া বাধ্যতামূলক নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টও পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে যারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তারা এখন এই নতুন নিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। সরকারের এই ছাড় তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।