সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়— বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা আছে কি না? জবাবে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
’আরাঘচি জানান, তার সরকারের কাছে এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিন দিনের সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযানের পর, পরিস্থিতি এখন শান্ত। এখন আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময়ে এই মন্তব্য করলেন যার কিছু আগে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বন্ধ হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন।
ইরানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সঙ্গে কথা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, ইরানের সংকট কোনদিকে যায় সেদিকে নজর রাখবেন। যদিও ইরানে সামরিক হামলার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেননি।
তেহরান থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, সারা দেশের মানুষের মধ্যে একটি চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ মানুষের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় মুদ্রার মূল্য হ্রাস এবং জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়ের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পরে যা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। বিরোধীরা যদিও হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করে। সূত্র : আলজাজিরা।