বাংলাদেশে নিষিদ্ধ তাই ভারতে এসে পর্ন সিনেমা করার ফাঁদ তৈরি করেন বাংলাদেশি যুবক। কলকাতার পার্শ্ববর্তী হুগলি জেলার ডানকুনি পৌরসভার ১৯ নং ওয়ার্ডের মৃগালা মল্লিকপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন রাসেল শিকদার নামে এক যুবক ও তার স্ত্রী। সেই ফ্ল্যাটে চালাতেন পর্ন সিনেমার শুটিং। সেইসব নীলছবি একাধিক পর্ন সাইটে বিক্রি করত ওই বাংলাদেশি যুবক। চার বছর ধরে চলছিল এই কর্মকাণ্ড। অবশেষে গত শনিবার পুলিশের জালে ধরা পরে বাংলাদেশি যুবক রাসেল সিকদার। হেফাজতে নেয়া হয় রাসেলের স্ত্রী পরিচয়ধারী নারীকেও।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসে কিছুটা অস্বাভাবিকভাবেই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে রাসেলের পর্ন সিনেমার নায়ক রাসেল নিজেই, আর নায়িকা তার স্ত্রী! এই স্ত্রী পরিচায়ধারী নারী সম্প্রতি অত্যন্ত গোপনে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। পুলিশের সামনে তিনি দাবি করেন রাসেল একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশ থেকে তাকেও রাসেল কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে এসেছে। ভারতে এসে তাকে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে তারা সামাজিকভাবে একত্রে বসবাস করছেন। যদিও ঘরের ভেতর রাসেল নিয়মিত পর্ন ভিডিওতে বাধ্যতামূলক অভিনয় করতে বাধ্য করেন তাকে। পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন ওই নারী।
জানা যায় কিছুদিন আগে রাসেল সিকদার দুর্ঘটনার কবলে পরে অসুস্থ হয়। রাসেলের অসুস্থতার সুযোগ নিয়েই বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চায় ওই তরুণী। এরপরই গত শনিবার নারীর দেয়া নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে বাংলাদেশি রাসেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এবং বাংলাদেশি ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পরে পুলিশ নিশ্চিত করেছে রাসেল সিকদার ও তার স্ত্রী পরিচয়ধারী নারী আদতে বাংলাদেশি। ডানকুনিতে একটি ফ্ল্যাট কিনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তারা বসবাস শুরু করেছিল। সেই ফ্ল্যাটেই চলত পর্ন ছবির শুটিং। তারপর তা বিক্রি করা হতো একাধিক পর্ন সাইটে। অভিযোগ এক প্রকার জোরপূর্বক বাংলাদেশি ওই তরুণীকে দিয়ে ছবি শুটিং করতেন রাসেল সিকদার।
সোমবার গ্রেপ্তার রাসেল ও ওই নারীকে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক রাসেলকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়া দেন ও তরুণীকে আপাতত একটি সেফ হোমে রাখার ব্যবস্থা করেন।
এদিকে বাংলাদেশি যুবকের কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয়ভাবে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি নেতা প্রকাশ পাল বলেন, 'ডানকুনিতে বাংলাদেশিতে ভর্তি হয়ে গেছে এমনকি ডানকুনিতে থেকে পর্ন ভিডিও শুট হচ্ছে। এলাকার তৃণমূল নেতারা জেগে ঘুমাচ্ছে। চার বছর ধরে ডানকুনির মত এলাকায় চার বছর ধরে বসবাস করে পর্ন ভিডিও তৈরি করছে, অসামাজিক কাজ করছে সেখানে এলাকার তৃণমূল নেতারা ঘুমাচ্ছেন। অথচ জেগে থাকার কথা।'
স্থানীয় কাউন্সিলর স্পষ্ট জানান, তার এলাকায় যে কোনও বাংলাদেশি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রয়েছেন, তা জানতেন না তিনি। দীর্ঘদিন রাজনীতির সুবাদে তিনি এলাকার প্রত্যেক বাসিন্দাকে নামে চেনেন বলে দাবি করে জানান, এবার থেকে আরও খোঁজখবর রাখতে হবে। বাইরে থেকে এসে এলাকায় কুকর্ম করে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কাউন্সিলর পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উৎস: চ্যানেল২৪