শিরোনাম
◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে?

প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০২:৩৩ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কীভাবে এল সৌদি আরবের শহরগুলোর নাম, অর্থ কী

সৌদি আরবের শহরগুলোর নামকরণের পেছনে রয়েছে ইতিহাস, ভূগোল, এবং আধ্যাত্মিকতার গভীর সম্পর্ক। মক্কা ও মদিনা থেকে শুরু করে জেদ্দা এবং নিওম পর্যন্ত, এই শহরগুলোর নাম তাদের উৎপত্তি ও তাৎপর্যকে নির্দেশ করে। কিছু শহরের নাম এসেছে তাদের উর্বর ভূমি থেকে, আবার কিছু নাম সমুদ্র বা পাহাড়ের সঙ্গে জড়িত। কীভাবে একটি রাজ্য ক্রমাগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তবু তার অতীতকে ভুলে যায়নি—এই নামগুলো তা প্রমাণ করে।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সৌদি জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে, এই লেখায় আলোচনা করা হলো সৌদি আরবের ১২টি শহরের নামের উৎপত্তি ও তাৎপর্য।

সৌদি আরবের রাজধানী হলো রিয়াদ। এই নামটি এসেছে এর প্রাচীন বাগান থেকে। মূলত আরবি শব্দ ‘রাওদা’ থেকেই এসেছে নামটি। এর অর্থ হলো বাগান বা তৃণভূমি। ‘রিয়াদ’ হলো এর বহুবচন, যা নাজদ মরুভূমির মাঝে অবস্থিত এই শহরের সবুজ উপত্যকা ও বাগানকে নির্দেশ করে। মরূদ্যানের সৌন্দর্য নির্দেশ করে সপ্তদশ শতক থেকেই এই নামটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত একটি প্রাণবন্ত উপকূলীয় সৌদি শহর জেদ্দা। এই নামটি এসেছে সমুদ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দ ‘জুদ্দা’ থেকে, যার অর্থ সমুদ্রতীর। স্থানীয় সংবাদপত্র ওকাজের মতে, এই নামের আরেকটি ব্যাখ্যা হলো ‘জাদ্দা’ বা দাদি, যা ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। এই ঐতিহ্য অনুসারে, এই শহরে মানবজাতির মা হাওয়ার সমাধি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কার নামটি আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই নামের অর্থ হলো—পাপ মোচন এবং বিশ্বাসে হৃদয়ের মিলন। ঐতিহাসিক নথি অনুসারে, এই শহরের প্রাচীন নাম ছিল মাকরাবা। গ্রিক উৎসে এটি মাকরাবো বা মাকা নামেও উল্লেখিত, যার অর্থ ‘পবিত্র শহর’। মক্কার নাম তার আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

পশ্চিম সৌদি আরবের হিজাজ অঞ্চলে অবস্থিত মদিনা শহরটি ‘আল মদিনা আল মুনাওয়ারা’ বা ‘আলোকিত শহর’ নামেও পরিচিত। প্রাক-ইসলামি কবিতায় এটি ইয়াসরিব নামে উল্লেখিত, যা কোরআনেও পাওয়া যায়। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে হিজরতের পরই এটি ‘আল মদিনা’ নামে পরিচিত হয় এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রথম রাজধানী হিসেবে এর ভূমিকা নির্দেশিত হয়।

সৌদি আরবের আলউলা শহরকে ‘জীবন্ত জাদুঘর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ভিজিট সৌদি। এর নামটি এসেছে আরবি শব্দমূল থেকে, যার অর্থ ‘উচ্চতা’। উত্তর-পশ্চিমের ওয়াদি আল কুরা উপত্যকার ওপরে এর অবস্থান এই নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই মরূদ্যানে রয়েছে হেগরার মতো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যা সৌদি আরবের প্রথম ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান।

সৌদি আরবের ভবিষ্যতের শহর হিসেবে পরিচিত নিওম। এই নামটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘নিও’ (নতুন) এবং আরবি অক্ষর ‘মিম’ (মুস্তাকবাল বা ভবিষ্যৎ) থেকে এসেছে। অর্থাৎ নিওম মানে ‘নতুন ভবিষ্যৎ’। দ্য লাইন খ্যাত রৈখিক এই শহরটির নির্মাণকাজ চলছে।

দাম্মামের নামটি এসেছে সমুদ্রের সঙ্গে শহরটির ঐতিহ্য থেকে। সৌদি ঐতিহাসিক মোহাম্মদ আল রাইসের মতে, ‘আল দাম্মাম’ শব্দটি এসেছে ড্রামের শব্দ থেকে, যা মুক্তো শিকারি ও মৎস্যজীবীদের বাড়ি ফেরার পথে স্বাগত জানাত।

ধাহরানের নাম এসেছে চুনাপাথরের পাহাড় ‘ধাহির’ থেকে, যার অর্থ ‘পিঠ’ বা ‘মেরুদণ্ড’। এই পাহাড়টি একসময় মরুযাত্রীদের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করত। এই শহরেই রয়েছে ইথরা, যা কিং আবদুল আজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচার নামে পরিচিত।

আল খোবারের নাম সম্ভবত ‘খাবর’ (ঝর্ণা) বা ‘আখবার’ (সংবাদ) থেকে এসেছে। এটি একটি জেলে পল্লি থেকে বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তায়েফের নাম এসেছে এর পাহাড়ি অবস্থান থেকে, যার অর্থ ‘ঘেরাও’ বা আশ্রয়। আসির উচ্চভূমিতে অবস্থিত আভা শহরের নামটি এসেছে ‘সবচেয়ে সুন্দর’ অর্থ থেকে। তাবুকের নামের উৎপত্তি নিয়ে অবশ্য ভিন্ন মত রয়েছে। কারও মতে, এই নামটি ‘তাবাউক’ (কাঠি দিয়ে পানি তোলা) থেকে এসেছে, আবার কেউ মনে করেন একটি ল্যাটিন শব্দ ‘তাবু’ থেকে এসেছে, যার অর্থ বিচ্ছিন্ন স্থান।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়