শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল, ২০২৪, ০২:০৬ দুপুর
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:২৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষ, সিএআইআরের তথ্য

রাশিদুল ইসলাম: [২] যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর মুসলিম ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও আক্রমণ রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে। এর পেছনে ছিল ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া) ও বছরের শেষ দিকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রসন ঘিরে সৃষ্ট পক্ষপাত। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (অ্যাডভোকেসি গ্রুপ) কাউন্সিল অন আমেরিকান–ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এ তথ্য জানায়। মুসলিম নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী বলেছে যে তারা গত বছর যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী ৮,০৬১টি অভিযোগ পেয়েছে, যা তার ৩০ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ।

[৩] সিএআইআর তিন দশক আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ নিয়ে তথ্য সংরক্ষণ করতে শুরু করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ হাজার ৬১টি মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার অভিযোগ এসেছে, যা তার আগের বছরের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ৩০ বছর ধরে যে তথ্য রেখেছে, তার মধ্যে গত বছরই সবচেয়ে বেশি মুসলিমবিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই ঘটেছে ৩ হাজার ৬০০ ঘটনা।

[৪] সিএআইআরের মতো একই তথ্য পাওয়া গেছে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা অন্য সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনেও। এসব প্রতিবেদনে বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া, ফিলিস্তিনবিরোধী মনোভাব বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

[৭] যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার মধ্যে রয়েছে গত অক্টোবরে ইলিনয়ে ছয় বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, নভেম্বরে ভারমন্টে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত তিন শিক্ষার্থীকে গুলি করা, টেক্সাসে গত ফেব্রুয়ারিতে এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকানকে ছুরিকাঘাতের মতো নানা ঘটনা।

[৮] সিএআইআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগ কমতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু গত বছর তা আবার রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গেছে। এর প্রধান কারণ ছিল গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সহিংসতার জেরে ইসলামোফোবিয়ার বিষয়টি বেড়ে যাওয়া।

[৯] ২০২৩ সালের মুসলিম বিরোধী ঘটনার তর২০১৭ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরের সময়কে ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২% বৃদ্ধি পেয়েছে। ১,৬৩৭ অভিযোগে, অভিবাসন এবং আশ্রয়ের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালে প্রাপ্ত মোট অভিযোগের ২০% অন্তর্ভুক্ত। কর্মসংস্থান বৈষম্য (১,২০১ অভিযোগ, বা ১৫%), শিক্ষা বৈষম্য (৬৮৮ অভিযোগ, বা ৮.৫%), এবং ঘৃণামূলক অপরাধ এবং ঘটনা (৬০৭ অভিযোগ, বা ৭.৫%) সর্বোচ্চ রিপোর্ট করা বিভাগগুলির মধ্যে রয়েছে। 

[১০] ইসরায়েলি যুদ্ধ গাজার জনসংখ্যার ৮৫%কে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র ঘাটতির মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যখন জাতিসংঘের মতে ছিটমহলের ৬০% অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়