জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দুই-একটা পক্ষ ধোঁয়াশা’ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার বাংলা একাডেমীর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, সেই ঐক্যে ফাটলের একটা চেষ্টা কোন না কোন পক্ষ নিচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে। যার জন্য আমরা তর্ক করছি, বিতর্ক করছি, সংস্কারের জন্য আলাপ-আলোচনা করছি। কিন্তু নির্বাচনকে নিয়ে যেন দুই-একটা পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আহ্বান জানাব, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য এদেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬ বছর সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে। অনেকগুলো অধিকারের মধ্যে প্রধানতম দাবি ছিল ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যখন একটা রাস্তা সুগম হয়েছে তখন এই রাস্তায় যেন আমরা কোন কাটা না বিছাই, এই আহ্বান সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আমি রাখছি।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আপনাদের সামনে এই কথা বলতে পারি, যদি জনগণ আমাদেরকে (বিএনপি) ম্যান্ডেট দেয় ইনশাআল্লাহ এই গুম প্রতিরোধের জন্য, গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার জন্য প্রথমেই আমাদেরকে যা যা করতে হয় আইন প্রণয়নসহ এবং সেটা কার্যত করার জন্য সবকিছু করা হবে। আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছি যে, বাংলাদেশে কোনদিন গুমের শিকার হয়ে কোন ব্যক্তিকে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।
নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে কোথাও কোথাও কথা বলতে শুনলাম, কোন কোন রাজনৈতিক দল যে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তার মধ্য দিয়ে নাকি একটু সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বাধা সৃষ্টি হবে অথবা নির্বাচন ভণ্ডুল করার নাকি একটা পাঁয়তারা হবে। আমরা সেভাবে কেন দেখব? এই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্যই তো বিগত এক বছর আমরা অনেকটা আলাপ আলোচনা এবং সরকারের সঙ্গে দল কষাকষি করে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই জায়গায় আসতে পেরেছি। আজকে যখন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হয়ে গেল, সেটা জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। সেই জায়গায় এটাকে আমরা স্বাগত না জানিয়ে এর মধ্যে কোন সন্দেহ, দোদুল্যমানতা দেখানো ঠিক হবে না।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আসুন যদি কোন রকমের কোন বিষয়ে কোনো সংশয় থাকে আমরা আলাপ-আলোচনা করি, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সুগম করি এবং এ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা নির্মাণ করি। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করি এবং একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক সংসদ আমরা রচনা করি। তার মধ্য দিয়ে আমরা আজকে যে সমস্ত অধিকারের কথা বললাম, এই অধিকারগুলো তখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে যদি এই আইনগুলো তখনই বাস্তবায়ন করা, প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। যদি আমরা গণতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠু ও একটি গ্রহণযোগ্য এবং সারা পৃথিবী ব্যাপী স্বীকৃত একটা নির্বাচন করি।
‘মায়ের ডাক’ এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সঞ্চালনায় সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, জাতিসংঘের আবাসিক অফিসের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জেএসডির সিনিয়র সহ সভাপতি তানিয়া রব, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, গুম বিষয়ক গবেষক মাহমুদ রাকিব, গুম হওয়া সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, গুমের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মাইকেল চাকমাসহ গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। উৎস: মানবজমিন।