বাংলাদেশে ভূমি মালিকদের অন্যতম দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল রেকর্ড খতিয়ানের ভুল। এই ভুলের কারণে অনেক ভূমি মালিক নিজেদের সম্পূর্ণ মালিকানা পুনরায় প্রমাণ করতে পারছেন না। কখনও কখনও পরিবার বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির ভাগও ঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মালিকদের কোটি টাকা খরচ করতে হয় বা বছরের পর বছর আদালতে ছুটে যেতে হয়।
সরকার বিষয়টি বোঝার পর এবার সরাসরি সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জানা গেছে, খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য আর কোনো ভূমি মালিককে দেওয়ানী আদালতে মামলা করতে হবে না। সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার ভূমি (এসএলআর) এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের।
সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, খতিয়ান হলো দখল প্রমাণের দলিল, মালিকানার দলিল নয়। তবে পূর্বে করা বিভিন্ন জরিপ যেমন সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, বিআরএস এবং সিটি সার্ভে—এবং অন্যান্য এনালগ রেকর্ডে বহু ভুল দেখা গেছে। নামের বানান, অংশের ঘর, দাগ নাম্বার ও জমির পরিমাণে ত্রুটি থাকায় মালিকানা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
এবার থেকে ভূমি মালিকরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট এসএলআরের কাছে আবেদন করে করণিক ভুল সংশোধন করতে পারবেন। এছাড়া যাদের মালিকানা সত্য বিলুপ্ত হয়ে অন্য কারো নামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা প্রয়োজন হলে কোর্টের মাধ্যমে মামলার মাধ্যমে তাদের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে এবং অতিরিক্ত খরচ ও আদালতে দৌড়াদৌড়ি করার ঝামেলা এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে দেশের চারটি জেলায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে সব জেলায় চালু করা হবে।