শিরোনাম
◈ যে ৫ কারণে কুরবানির চামড়ার বাজারে ধস! ◈ ফরিদপুরে দুই দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর ◈ পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি দাম নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার ◈ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না পাকিস্তান, ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান খাজা আসিফের ◈ স্থবির অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ◈ ইরানে আবারও হামলা শুরু, যা জানাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বহুবিবাহ নিষিদ্ধ ও লিভ-ইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব! ◈ ঈদের আগে ভারতে নতুন বিতর্ক: গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে মুসলিম আলেম-সংগঠনগুলো ◈ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় ◈ ঈদযাত্রায় সায়েদাবাদে তীব্র যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ঘরমুখো মানুষ

প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬, ০৮:০৩ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে পুলিশ 

দীপক চৌধুরী: যত সময় আমরা পেরিয়ে চলেছি বাড়ছে জটিলতা, নৃশংসতা আর উন্মাদনা। চারদিকে অশনি সংকেত।  বারবার বলে চলেছিÑ সবাই আস্থা পায় এমন পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। বিচারহীনতা ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের পর তড়িৎগতিতে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বহু চাঞ্চল্যকর ঘটনা এখনো ছাইচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। 

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার পর লাশ খণ্ডিত করে গুমের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন  সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নাগরিক জীবনের এক অন্ধকার দিক। এটিকে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ বলা চলে। ভয়ঙ্কর এই হত্যাকাণ্ড কী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো প্রমাণ করে না? কতটা কষ্ট রামিসার বাবার বুকে আমরা জানি না! তবে অনুমান করতে পারি।  হত্যার ঘটনায় মনের দুঃখে রামিসার বাবা সমাজ ও সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিচার চাই না। আপনারা বিচার করতে পারবেন না।’ আসলেই  থেবে দেখার মতো এটা একটা বড় প্রশ্ন! 

 আদালতে আজ পুলিশ আবেদন করেছে। আবেদনে বলা হয়, ‘হত্যার শিকার শিশুটি রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয়   শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত   সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে বাসা  থেকে  বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পাশের ফ্ল্যাটের স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।’ আবেদনে আরও বলা হয়, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা  খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা  দেখতে পান তারা। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা  ভেঙে  ভেতরে  ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।’

পুলিশ বলেছে, ‘ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। আরেকটি কক্ষের  ভেতরে একটি বালতির মধ্যে রাখা ছিল মাথা।’ আবেদনে আরও বলা হয়, ‘মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর  থেকে আলাদা করা হয়। তার  যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। দুই হাত কাঁধ  থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম  থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।’ কী ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা আর নৃশংসতা। এর শেষইবা কী? 

বড়বড় রাজনীতিবিদ ও সুশীলদের কাছ থেকে আমরা মানবাধিকার রক্ষার জন্য নানারকম উপদেশ শুনি। এর জবাবে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি শুনি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এই বাস্তবতার কারণ ও এর গভীরে আমরা যাচ্ছি না বা যেতে পারি না কেন? এসব প্রশ্ন শুনতে পাই বিভিন্ন জায়গায়! কাজটি যার করা দরকার তাকে না দিয়ে যদি ‘পছন্দের মানুষ’ খুঁজে বেড়াই তাহলে যা হওয়ার তা-ই হবে? একারণেই বলি, মূল গলদটি কোথায় সরকার ও পুলিশকেই বের করা জরুরি! জনগণের ভোটে জয়ী সরকারকে এ কাজটিই করতেই হবে।

ইদানিং পুলিশ বিভাগের তিনজন পুলিশ সুপারকে (এসপি) নিয়ে নানারকম কথা উঠেছে। নিয়োগ দেয়ার মাত্র দশদিনের মাথায় মৌলভীবাজারের  পুলিশ সুপার (এসপি)  রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে ৯ মে আইজিপি  ফেনী ও পঞ্চগড়ের দুই এসপিকে প্রত্যাহার করেন। ফেনীর মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশাসন তাদের প্রয়োজনে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে! জনগণের চাওয়ার বিষয় থাকে অনেকসময়। এজন্যই তা গভীরভাবে চিন্তা করার প্রয়োজন হয়। একজন এসপি কিন্তু একটি জেলার প্রধান পুলিশ অফিসার।

পুলিশ প্রশাসন চালাতে তাকে অনেক কিছু দেখতে হয়, খেয়াল করতে হয়, বিবেচনা করতে হয়। সাধারণ মানুষ কয়টি খবর পান অন্তরালের। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে নানারকম অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখে পড়তে হয় এ বাহিনির সদস্যকে। সাংবাদিক হিসেবে এসব বিষয় খুব কাছ থেকে দেখছি। অবসর সময়ের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে হাসতে হাসতে আড্ডা দিচ্ছেন বা স্ত্রী ছেলেমেয়ের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন এ সময়ই বদলির অপ্রত্যাশিত আদেশ পেয়ে যান পুলিশ সুপার বা অন্যকোনো সদস্য। কী আর করা! বদলিস্থানে যেতেই হচ্ছে। এটা পুলিশের চাকরিতে হয়ে থাকে। কিন্তু এবারের তিনজন এসপিকে এভাবে অতিদ্রুত প্রত্যাহারে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, বন্ধু-বান্ধবের কাছেও নানারকম নেতিবাচক ম্যাসেজ যাচ্ছে।

আমাদের কেউ কেউ তাদের অন্যরকম চোখেও দেখতে পারেন! বলতে চাই, এত গুরুত্বপূণ১ পদে নিয়োগের আগে সকলদিক ভাবা দরকার ছিল না? এমনিতেই আমরা ভীষণ সমালোচক। এটা আমাদের বৈশিষ্ট্য। আর সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পুলিশ। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশ থাকে সব সময় আলোচনায়। এত কাজ করার পরও সবচেয়ে  বেশি সমালোচনা হয় ট্রাফিক বিভাগে। অবশ্য মাঝেমধ্যে সমালোচনার কারণও আছে, দেখতে পাই।  তবে হ্যাঁ আমরা কিন্তু ইউরোপ স্টাইলে পুলিশ সাভি১স চাই? চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ট্রাফিক পুলিশ, শুধু ট্রাফিক পুলিশ বলছি কেন?  নেই  শৌচাগার,  নেই ভালো বাথরুম,  নেই বিশ্রামের সুবিধা। ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য স্ত্রীর ডাকে প্রয়োজনে ছুটি পাই না।অধিকাংশ নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা এই সমস্যায় ভুগছেন কিন্তু!

অথচ তাদের কথা শুনতে চাই না! শুধু অপরের দোষ খুঁজে বেড়াই। একটি গবেষণা বলছে, ঢাকায় কানে কম  শোনেন ট্রাফিক পুলিশ। কারণ তারা সারাদিন থাকেন সড়কে, রাস্তায়। এসব ছাড়াও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উল্টো পথে গাড়ি  যেতে না দেওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে মারধর কিংবা বাসের ধাক্কায় প্রাণ যায় ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার। এসব খবর পুলিশের নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু আমরা কতটা ভাবি তাদের নিয়ে? থানা থেকে দোষী আসামিকে তুলে নিয়ে যেতে চাই! ওসিকে ‘বেইজ্জত’ করতে আমাদের গায়ে লাগে না।

এটাই তো হচ্ছে এখন! পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয় না সুযোগ-সন্ধানীরা। কারা দলীয় পুলিশ বানিয়ে রাখতে চায় আমরা জানি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, নিষ্ঠুর খুনি, কুখ্যাত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে হয় পুলিশকেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অবশ্যই করতে হচ্ছে পুলিশকেই। পুলিশ এত কাজ করে তারপরও আমরা নানাকারণেই সমালোচনা করি। দায়ী পুলিশকে অবশ্যই বিচার করতে হবে। কিন্তু ঢালাওভাবে যেন দায়ী না করি পুলিশের সাধারণ সদস্যদের। তবে এটাও সত্যÑ কিছু পুলিশের দায়িত্বহীনতার পরিচয়ও আমরা পাই। এটা পুলিশকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

কয়েকদিন আগে এক ডিআইজি ঘোষণা দিলেনÑ তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করেন! কিন্তু কেন? কে দেবে এর জবাব। প্রকাশ্যে এধরনের কথা বলার মানে কী! যারা ছোটখাটো পুলিশ অফিসার তারা ভীষণ বেকায়দায়। তাদের অসহায়ত্ব ঘুচিয়ে দেবে কে? 

২৪-এর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব  নেওয়া অন্তব১ত১ী সরকারের শাসনামলে বহু মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে  বেশ কিছু তথ্য  তুলে ধরে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট  থেকে হিসাব করেছে অধিকার। ৬,৭,৮ আগস্টের হিসাব করেনি অধিকার।

অধিকার বলেছে, ‘২০২৫ সালে  দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার  যৌথ বাহিনী মাঠে নামালেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। এ সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ পাওয়া  গেছে।’ সংঘবদ্ধ পিটুনিতে (মব) হত্যার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘গত (২০২৫) এক বছরে ব্যাপকভাবে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা করে আইন নিজের হাতে তুলে  নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা  গেছে। গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে  চোর সন্দেহে। মানসিক প্রতিবন্ধী ও কিশোরেরাও এই সহিংসতা  থেকে  রেহাই পায়নি। এক বছরে সারা  দেশে ১২৫ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।’ 

সম্ভবত মাচে১ও শেষ দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক  মো. আলী  হোসেন ফকির এক চিঠিতে কড়া নির্দেশনা জারি করেছিলেন। জারিকৃত চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, কতিপয় পুলিশ সদস্যের মাঝে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ জুয়া  খেলার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। জুয়া ও মাদকসেবনের ভিডিও করা হচ্ছে এবং  সেই ভিডিও মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুয়া ও মাদকসেবনের বিষয়টি ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।  বোঝাই যাচ্ছে, এ দুই  নেশা সমাজের জন্য বিপদের কারণ হয়ে পড়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শকের আলোচ্য নির্দেশনাটি জরুরি ছিল। লক্ষ করা যায়, রাজধানী  থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জুয়া ও মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে।

এমতাবস্থায় মহাপরিদর্শক মনিটরিং,  প্রণোদনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো একেবারে শূন্যের  কোঠায় নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ দুই সর্বনাশা  নেশার কারণে এলাকাগুলোর পরিবেশই শুধু কলুষিত হচ্ছে না, জুয়াড়ি ও মাদকসেবী এবং তাদের পরিবারে  নেমে আসছে নানা  ভোগান্তি। কখনো কখনো ব্যক্তি ও পরিবার পড়ছে ধ্বংসের মুখে। এসবের পাল্লায় পড়ে কখনো কখনো  দেউলিয়াও হয়ে যাচ্ছে  কেউ  কেউ। উল্লেখ্য,  খোদ মহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত এ ধরনের চিঠি এর আগে পুলিশ সদস্যরা পাননি। একাধিক পত্রিকায় এ চিঠির প্রসঙ্গ এসেছে। আমরা মনে করি, এটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ আইজিপির জন্য। 

সমাজে অন্যায়-অপরাধ বিস্তারের  পেছনেও মদ ও জুয়া এ দুই বদঅভ্যাসকে দায়ী করা যায়। জুয়া ও মাদকের টাকা  জোগাড় করতে আসক্তরা ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এ সংক্রান্ত খবরাখবর জাতীয় পত্রিকাতেও আসে।  মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় এ ধরনের খবর বেশি থাকে। এক কথায়, জুয়া ও  নেশা সমাজে এক অভিশাপ হয়ে  দেখা দিয়েছে। এমন এক অবস্থায় পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়  থেকে প্রতিরোধমূলক নির্দেশনাটি সুফল বয়ে আনবে বলা যায়।

এতে বহু পরিবার উপকৃত হবে। বহু মানুসের জীবনে ইতিবাচক অধ্যায় শুরু হবে। কাজেই মহাপরিদর্শকের নির্দেশনামূলক চিঠিটির মর্মকথা পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা যদি নিজেরাই এ জাতীয় অপরাধে লিপ্ত হয়, তখন  সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? অপরাধীরাও তখন ‘মারহাবা মারহাবা’ বলে চিৎকার করে হাততালি দেবে। সুতরাং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে অনেক বেশি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুষ্টু লোকেরা সময়-সুযোগ পেলেই কড়া নাড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানারকম স্তরে। এরপর প্রবেশ ঘটায়। নিষ্ঠুরতার খেলায় সমাজকে কলুষিত করে। পুলিশের কাছে তাদের তালিকা রয়েছে।

লেখক  : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট, কথাসাহিত্যিক ও ফিল্মমেকার

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়