ঈদুল আজহার ঠিক আগে- যে উৎসবে ঐতিহ্যগতভাবে ছাগল ও গরুসহ বিভিন্ন পশু কোরবানি দেয়া হয়, বেশ কিছু মুসলিম সংগঠন ও আলেমারা দাবি করেছে যে, হিন্দুদের একটি বড় অংশের কাছে পবিত্র বলে বিবেচিত গরুকে ভারতের জাতীয় পশুর মর্যাদা দেয়া হোক। ঐতিহাসিকভাবে এতদিন ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এবং বিজেপি বিধায়কদের পক্ষ থেকে যে দাবি উঠেছে বারংবার- এবার সেই একই দাবিতে সরব হয়েছেন বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও মুসলিম নেতারা।
বর্তমান ভারতের জাতীয় পশু হলো বাঘ। অন্যদিকে গরুর এখন পর্যন্ত এমন কোনো সরকারি মর্যাদা নেই।
আজমির শরিফের আলেমসহ বিশিষ্ট মুসলিম সংগঠন ও আলেমগণ হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এই বিষয়টির রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সক্রিয়ভাবে আবেদন করেছেন।
জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি দাবি করেছেন, গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা এবং এর জবাই ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি বিধান প্রণয়ন করা হোক।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত একটি সর্বধর্মীয় সম্মেলনেও তিনি এই দাবি জানিয়েছিলেন। সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপ গো-হত্যার রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ করতে এবং এর নামে সংঘটিত গণপিটুনি ও সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
কিছু সংগঠন এই বিষয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে অন্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা করছে।
সর্বভারতীয় মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা করার মাদানির দাবিকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করেছেন।
রাজভী বলেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের মধ্যে একটি ঐকমত্য তৈরি করাই হবে তার উদ্দেশ্য।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মাওলানা খালিদ রশিদ ফারঙ্গি মাহালি বলেন, হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।
ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের কাউসার হায়াত খানও গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিকে সমর্থন করেছেন। তবে তিনি বলেন, বিজেপি-শাসিত গোয়া, আসাম এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে অবাধে গরুর মাংস খাওয়া অব্যাহত রয়েছে, অথচ দলটি উত্তর প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, একটি সমান জাতীয় আইন এই অসামঞ্জস্য দূর করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গেও ইমামদের পক্ষ থেকে এই একই দাবি জানানো হয়েছে। এ বছরে পশ্চিমবঙ্গর বিজেপি সরকারের গরু জবাই নিয়ে কঠোর নীতির কারণে ইমামরা কোরবানি করতে নিষেধ করেছেন।