শিরোনাম
◈ আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী ◈ ‘উগ্রবাদীদের শিক্ষা দিতে’ কুরবানিতে গরু না দেওয়ার আহ্বান মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশার (ভিডিও) ◈ অবশেষে কাটলো সম্প্রচার জট, ভারতে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ◈ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ৪০ কোটি হাতকে এক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন বেড়েছে, বিচারহীনতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ চায় ইউনিসেফ ◈ কলকাতায় বাংলাদেশি তারকাদের কাজে আপত্তি টলিউডের টেকনিশিয়ানদের, যা বললেন রুদ্রনীল ◈ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করলেন ◈ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকে ছুটি শুরু ◈ গ্রিন কার্ডে নতুন কড়াকড়ি: যুক্তরাষ্ট্রে বসে আর নয়, বিদেশিদের দেশে ফিরে আবেদন বাধ্যতামূলক! ◈ চার নতুন নিয়ম আস‌ছে বিশ্বকাপে, ম্যাচের চেহারা বদ‌লে যা‌বে!

প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬, ১০:৩২ দুপুর
আপডেট : ২৩ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তান থেকে আসা ২৮ টন বিট লবণ আটকাল চট্টগ্রাম কাস্টমস

কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট বা বিট লবণের একটি চালান চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বা প্রাপ্যতা সনদ ছাড়া চালানটি খালাসের অনুমতি দেয়নি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। জাতীয় লবণনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস সূত্র। তবে একটি সিণ্ডিকেট চালানটি ছাড়িয়ে নিতে তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘পিক মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে চালানটি আমদানি করেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর প্রতিষ্ঠান ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ২০ ফুট কন্টেইনারে আসা পণ্যটির খালাসের জন্য গত ৪ মে আমদানিকারকের পক্ষে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে সিএন্ডএফ এজেন্ট তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ। তবে আমদানি নথির সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি সংযুক্ত না থাকায় খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।

চালানটিতে মোট ২৮ হাজার কেজি বা ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট রয়েছে। ১ হাজার ১২০টি ব্যাগে বন্দরে আসা পণ্যটির মোট ইনভয়েস মূল্য ৬ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে কাস্টমস।

এ চালানের বিপরীতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর মিলিয়ে মোট ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৫ টাকা ৯৭ পয়সা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। চালানটির এলসি ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড।

জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া ক্রুড লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় না। সব ধরনের লবণ আমদানির ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বা প্রাপ্যতা সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশীয় লবণ শিল্প সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তৌহিদা ইসলাম বলেন, জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী সোডিয়াম ক্লোরাইড বা এ ধরনের লবণ আমদানিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী চালান খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে।

তৌহিদা ইসলাম আরও বলেন, আগে ইমপোর্ট পারমিটের ভিত্তিতে এসব পণ্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে খালাস দেওয়া হলেও চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো লবণের চালান খালাস করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশে রক সল্ট বা বিট লবণ খাদ্য, মসলা ও আচার শিল্প, হারবাল ও ইউনানি ওষুধ, কসমেটিকস এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘হিমালয়ান পিংক সল্ট’ নামে পরিচিত এ ধরনের লবণের ব্যবহার রেস্টুরেন্ট ও স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যেও বাড়ছে। তবে দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকায় স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সরকার এ পণ্যের আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

কাস্টমস সূত্রে আরও জানা গেছে, রক সল্ট বা বিট লবণ ২৫১০০৩০ এইচএস কোডের আওতায় আমদানি হয়। বর্তমানে এ পণ্যে প্রায় ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে এ এইচএস কোডের আওতায় ৬২৮ দশমিক ৬৫ টন রক সল্ট আমদানি হয়েছে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ ধরনের আমদানির তথ্য পাওয়া যায়নি।

আমদানিকারক ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক ইয়াসিন আরাফাত এ বিষয়ে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা বিডা নিবন্ধিত, বিএসটিআই সনদ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল আমদানি সনদ শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হয়েছে। এতোদিন কাউকে অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হত না। এখন দেওয়ার জন্য বলেছে। আমরাও অনাপত্তিপত্রের জন্য আমাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী আবেদন করেছি। এখানে আমাদের অপরাধ কোথায়? আমরা তো নিয়ম ভেঙে চালান ছাড় করে নিয়ে যাইনি।’

ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন ২৩ এপ্রিল থেকে বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কিন্তু এটার জন্য সরকার কোনো নোটিশও দেয়নি, প্রজ্ঞাপনও দেয়নি। এর আগেই আমাদের পণ্য জাহাজে উঠেছে। ৪ মে আমরা শুল্কায়নের জন্য গেলে মৌখিকভাবে জানানো হয়, প্রাপ্যতা অনুযায়ী অনাপত্তিপত্র লাগবে। যদিও লিখিত দেওয়ার নিয়ম তা দিচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি অনাপত্তিপত্র সংগ্রহের জন্য।’

সূত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়