জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : কালের বিবর্তনে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে তালগাছ। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত প্রতিরোধে এখন আবার অনেকেই নতুন করে তালের আঁটি রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মৌসুমি ফল তালের শাঁসের চাহিদা ও কদর বেড়েছে ব্যাপকভাবে।
গরমের এ সময়ে সুস্বাদু ও শীতলকারী ফল হিসেবে তালের শাঁস ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জীবননগর পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তার মোড়, ফুটপাত ও পাড়া-মহল্লায় কয়েকদিন ধরেই দেখা মিলছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের। ধারালো দা দিয়ে কাঁচা তাল কেটে মুহূর্তেই শাঁস বের করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা।
শনিবার সরেজমিনে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে, চৌরাস্তা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় কাঁচা তালে ভরে উঠেছে বাজার। কোথাও ভ্রাম্যমাণ দোকান, আবার কোথাও ভ্যানযোগে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বিক্রি হচ্ছে তাল শাঁস।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তালের শাঁস বিক্রি করা আলাউদ্দীন জানান, মৌসুম এলেই তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। অন্য সময় তিনি বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। তিনি বলেন, “কেউ একটু নরম শাঁস পছন্দ করেন, আবার কেউ শক্ত শাঁস খেতে চান। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কাদি তাল বিক্রি হয়। এই মৌসুমে তাল বিক্রি করে সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা আসে।”
বিক্রেতারা জানান, প্রতিটি তালে সাধারণত ২ থেকে ৩টি শাঁস থাকে। প্রতিটি তাল ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরমের কারণে তালের শাঁসের চাহিদা এবার বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে বাজারে আনা হচ্ছে।
তারা আরও জানান, চাহিদা বেশি থাকায় সময়মতো শাঁস কেটে ক্রেতাদের দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য অনেকেই ১ থেকে ২ জন সহকারী রাখছেন। প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে চলে এই ব্যবসা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একজন বিক্রেতা প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শাঁস বিক্রি করেন। এতে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের ক্রেতা লিটন মির্জা বলেন, “বছরের এই সময়ে তালের শাঁস খেতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে গরমে এটি শরীর ঠান্ডা রাখে। তবে এবার দাম একটু বেশি।”
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “এ বছর তালের ভালো ফলন হয়েছে।
নতুন নতুন তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণেও মানুষ আগ্রহী হচ্ছে। বর্তমানে বজ্রপাত প্রতিরোধে রাস্তার ধারে ও খালের পাড়ে তালগাছ লাগানো হচ্ছে। কৃষি অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও তালগাছ রোপণে কাজ করছে।”