ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, আরাফার রোজা (৯ জিলহজ) হজ পালনকারীদের জন্য সুন্নত নয়। যদি কোনো হজ পালনকারী মনে করেন যে রোজা রাখলে তার শারীরিক কোনো সমস্যা হবে না এবং তিনি হজের অন্যান্য দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, তবে তার জন্য রোজা রাখা জায়েজ। কিন্তু হজ পালনকারীদের জন্য সুন্নত হলো আরাফার দিন রোজা না রাখা, যাতে তারা পূর্ণ শক্তি নিয়ে হজের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন। আরাফার দিনের এই রোজার সুন্নত বিধানটি মূলত হাজিদের ছাড়া বাকি সাধারণ মুসলমানদের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।
শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার বয়ানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদায় হজের সময় আরাফাতের ময়দানে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা অবস্থায় আছেন কি না, এ নিয়ে সাহাবিদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছিল। এই সংশয় দূর করার জন্য রসুলুল্লাহর (সা.) সামনে এক পেয়ালা দুধ পেশ করা হলো। তিনি সবার সামনে সেই দুধ পান করলেন। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, বিদায় হজের দিন আরাফাতের ময়দানে নবীজি (সা.) রোজা রাখেননি। এই গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি ইমাম বুখারি রহ. তার ‘সহিহ বুখারিতে সংকলন করেছেন।
জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, আরাফার দিনের এই রোজার সুন্নত বিধানটি মূলত হাজিদের ছাড়া বাকি সাধারণ মুসলমানদের জন্য। আর এই রোজার সময়কালকে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থানের সময়ের সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এই রোজার সম্পর্ক মূলত তারিখের (৯ জিলহজের) সাথে। নিজ নিজ দেশে যখন ৯ জিলহজ, তখনই এই রোজা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে ও হাদিসে ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের জন্য জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনকে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সময় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর কাছে জিলহজের এই দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় ও আফজাল (উত্তম) অন্য কোনো দিনের আমল নয়। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়?’ নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, ‘না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যিনি নিজের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছেন এবং কোনো কিছু নিয়েই আর ফিরে আসেননি (অর্থাৎ শহীদ হয়েছেন)।’
মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, ফরজ ও ওয়াজিব আমল তো সব সময়ই আছে এবং এই দিনগুলোতে আল্লাহ তায়ালা সেগুলোতে আরও বেশি সন্তুষ্ট হন। এর পাশাপাশি নফল আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এই দিনগুলো এক বিশাল সুযোগ। ১ জিলহজ থেকে শুরু করে ৯ জিলহজ পর্যন্ত একটানা নয় দিন নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, কারণ ঈদের দিন (১০ জিলহজ) রোজা রাখা হারাম। কেউ চাইলে এই নয় দিনই রোজা রাখতে পারেন, আবার কেউ চাইলে নিজের সুবিধা অনুযায়ী কিছু দিন রোজা রাখতে পারেন এবং কিছু দিন ছেড়ে দিতে পারেন, এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কারও যদি ৯ জিলহজের রোজা নিয়ে মনে কোনো দ্বিধা কাজ করে, তবে তিনি চাইলে আগের দিন অর্থাৎ ৮ জিলহজসহ মিলিয়ে রোজা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, রোজার পাশাপাশি এই দশ দিনের রাতগুলো ইবাদত করে অতিবাহিত করা উচিত। রমজানের শেষ দশকে আমরা যেভাবে রাত জেগে ইবাদত করি, ঠিক একইভাবে জিলহজের এই দশ রাতেও যে যতটুকু পারেন, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ, ইস্তেগফার এবং দীর্ঘ কেরাতের মাধ্যমে নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ পড়া উচিত। এছাড়া মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে আউয়াবিনের নামাজ একটু বেশি পড়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নফল সদকা ও দান-খয়রাত করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। উৎস: সময়নিউজটিভি।