ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক সদস্যের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, তার পুরোনো সহপাঠী ও সহযোগীরা মিলে তাকে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল, কালো জাদু এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তর করেছে। খবর এনডিটিভির।
দেশটিতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্তও রয়েছে, এবং ধর্মান্তরের সঙ্গে জড়িত এক মাওলানাকে খুঁজে বের করতে মধ্যপ্রদেশে একটি দল পাঠানো হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনের নাম আজাজ মাদারে এবং তার সহযোগী আমিন শেখ।
পানীয়তে মাদক মিশিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ
এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি হোটেলে সাক্ষাতের সময় আজাজ ২৪ বছর বয়সী ওই নারীর পানীয়তে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে দেন। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর তিনি দেখেন, অভিযুক্ত তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছে। এরপর তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং হুমকি দেয়া হয় যে ভিডিওগুলো তার স্বামীর কাছে পাঠানো হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হবে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এরপর তাকে বারবার যৌন নির্যাতন করা হয় এবং তার কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ রুপি আদায় করা হয়।
ভাইরাল ভিডিও
এনডিটিভি জানিয়েছে, একটি ভাইরাল ভিডিও এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ২৪ বছর বয়সী ওই নারী কাঁদতে কাঁদতে অভিযুক্ত আজাজ মাদারের (২৬) কাছে অনুরোধ করছেন তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আমাকে ছেড়ে দাও- যখন আজাজ জোরপূর্বক তার হাত ধরে ধর্মীয় বাক্য পাঠ করছেন এবং বারবার তার ওপর ফুঁ দিচ্ছেন। ওই নারীকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তাকে ‘ধর্মান্তরিত’ ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, আজাজ প্রায়ই একটি প্লাস্টিকের বোতলে কিছু তরল নিয়ে আসতেন এবং তাকে তা পান করতে বাধ্য করতেন। এরপর তিনি উর্দুতে কিছু উচ্চারণ করে তার মুখে ফুঁ দিতেন এবং এটিকে ‘হিপনোটিজম ও কালো জাদু’ বলে দাবি করতেন, তারপর তাকে ধর্ষণ করতেন।
জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও ‘নিকাহ’
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৩১ মে আজাজ মাদারে ও তার সহযোগী জোরপূর্বক ওই নারীকে কলমেশ্বর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলার তামিয়া গ্রামের এক মাওলানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন এবং তাকে কবুল বলতে বাধ্য করে ধর্মান্তরিত করেন। ওই মাওলানা এই মামলার তৃতীয় অভিযুক্ত।
ভুক্তভোগীর দাবি, এটি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হয়। পরে ওই মাওলানা ঘোষণা করেন যে তার ধর্মান্তর সম্পন্ন হয়েছে এবং আজাজের সঙ্গে তার ‘নিকাহ’ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর তাকে জোরপূর্বক মাংস খাওয়ানো এবং কালিমা পড়ানো হয়। পরে তাকে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে আজাজ আবারও ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।
পুলিশি পদক্ষেপ
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কালোজাদু- প্রতিরোধ আইনসহ ধর্ষণ, বারংবার যৌন নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। নাগপুর পুলিশ একটি দল গঠন করে অভিযুক্ত মাওলানাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ডিসিপি সুরেশ রেড্ডি বলেন, ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ধর্মান্তর এবং কালো জাদুর অভিযোগ করেছেন। জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।