মনজুর এ আজিজ: দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশই নির্ভর করছে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ আসে এই একক খাত থেকে। এর বিপরীতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবদান মাত্র ২.৪ শতাংশ। অন্যান্য প্রধান খাতের অংশ দুই শতাংশেরও কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস খাত থেকে এসেছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একক খাতের ওপর নির্ভরতা দেশের রফতানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা, নীতিমালা বা ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে পোশাক খাতে কোনো ধাক্কা লাগলে তার বড় প্রভাব পড়বে সামগ্রিক রফতানি আয়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পাল্টা শুল্কারোপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা সীমিত হয়েছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি ও উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে রফতানিতে বৈচিত্র্য এনেছে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য নয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় ছিল ১২৩ কোটি ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১১৩ কোটি ডলারে।
এছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্য (১.৯%), হোম টেক্সটাইল (১.৬%), তুলা ও তুলাজাত পণ্য (১.১%), জুতা ও প্রকৌশল খাত (১.১%) রফতানিতে সীমিত অবদান রাখছে। রাসায়নিক, বিশেষায়িত বস্ত্র, চিংড়ি, প্লাস্টিক ও তামাক খাতের অবদান ০.৫ থেকে ০.৮ শতাংশের মধ্যে।
খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চামড়া, ওষুধ, আইসিটি সেবা, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে। এসব খাতের উন্নয়নে প্রয়োজন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ জনবল, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এখনই রফতানি বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, স্বল্প সুদের ঋণ এবং কর সুবিধা বৃদ্ধি করলে নতুন খাতগুলো দ্রুত বিকশিত হতে পারে।