কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া একটি ব্রিজ, দীর্ঘ ৮ বছরেও হয়নি সংস্কার। নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসী ভাঙা ব্রিজের নিচ দিয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে,কিন্তু বর্তমানে সেটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে মহাবিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ১২ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘ আট বছর ধরে এমন ভোগান্তিতে চলাচল করলেও নজর পড়েনি স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের বেশির ভাগ অংশই ভেঙে পড়েছে। ঝুঁলে আছে সামান্য একটি অংশ। অপর দিকে ব্রিজের নিচে বাঁশ ও ড্রামের তৈরি সাঁকোটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করলেও,অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনাও। কেউ কেউ কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাচ্ছেন গন্তব্যে। একমাত্র ব্রিজটির অভাবে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলা গাছের ভেলায় পারাপার হলেও, কেউ কেউ পার হচ্ছেন সাঁতরিয়ে। এমন চিত্র কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মেকলী ও ছাটকালুয়া গ্রামের ব্রিজটির।
২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজটির নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে, বেশির ভাগ অংশ ভেঙে যায়। তখন থেকে চলাচলে কষ্ট শুরু হয় ১০-১২টি গ্রামের মানুষের। প্রতিবছর বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত সচল করলেও, সেটিও বর্তমানে ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে এমন ভোগান্তিতে চলাচল করলেও নজর পড়েনি স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের।
এ বিষয়ে স্থানীয় আবুল হোসেন জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর গ্রামবাসী ড্রামের ওপর ভাসমান বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে। সেটিও বর্তমানে ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেকে নিরুপায় হয়ে সাঁতরিয়ে যাতায়াত করছে৷
ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ দীর্ঘ ৮ বছরেও সংস্কার হয়নি। যার কারণে চরম ভোগান্তিতে দু-পারের হাজার হাজার মানুষ। ব্রিজটি অভাবে আমরা কৃষি পণ্য আনা নেয়া করতে পারছি না। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারছে না।
জমিলা বেগম নামের এক নারী ভুক্তভোগী বলেন, ব্রিজটি না থাকার কারণে আমরা যাতায়াত করতে পারি না। ছেলে মেয়েরাও স্কুলে যেতে পারে না। খুব সমস্যাত আছি আমরা।
কুড়িগ্রাম স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইউনুস আলী বিশ্বাস বলেন, ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রত সময়ের মধ্যে সংস্কারের প্রস্থাপনা পাঠানো হবে।