এম এম লিংকন: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। গত রোববার পরিকল্পনা কমিশন এক চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব জানান, পরিকল্পনা কমিশন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইভিএম প্রকল্পটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরকারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় আপাতত প্রক্রিয়াকরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে প্রকল্পটির কার্যক্রম প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও বাতিল হচ্ছে না।
জাহাংগীর আলম বলেন, কমিশন আগেই জানিয়েছে নতুন প্রকল্প পাস না হলে আমাদের কাছে যত মেশিন আছে, তা দিয়ে যতগুলো আসনে সম্ভব, ততগুলো আসনেই ভোট করবো। এটা ৫০টিও হতে পারে, ৬০টিও হতে পারে, ৭০টিও হতে পারে। আমরা পরীক্ষা করে দেখবো। যদি আর্থিক সামর্থ্য হয় তাহলে ভবিষ্যতে হবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২ লাখ ইভিএম কিনতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন দেয় ইসি। এই প্রকল্পে ইভিএম রাখার জন্যে গুদামঘর, লোকবল ও প্রশিক্ষণসহ আরও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সন্নিবেশিত রাখা হয়।
প্রকল্পটির প্রস্তাবনা (ডিপিপি) একনেকে অনুমোদনের জন্য ১৯ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প যাচাই বৈঠক করে কিছু খাতে খরচ কমাতে পর্যবেক্ষণ দেয়। এসব বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের জিজ্ঞাসার জবাবও দেয় ইসি।
২০১১ সালের পর থেকে বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। তবে তখন ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ইভিএমে নির্বাচন করার সামর্থ্য ছিল নুরুল হুদা কমিশনের।
সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে শুরু করে বিএনপিসহ সমমনা বেশ কয়েকটি দল ভোটে ইভিএম মেশিন ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে বর্তমান কমিশন ভোটের দেড় বছর আগেই কমপক্ষে দেড় শ আসনে ইভিএমে ভোট করার চিন্তাভাবনা জানিয়ে আসছিল। রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটের এ সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ইভিএম কেনা ও এর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই ইভিএম প্রকল্প আপাতত থেমে গেল। সম্পাদনা: খালিদ আহমেদ
এমএমএল/কেএ/এইচএ