শিরোনাম
◈ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভেঙে পড়ার শঙ্কা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের অভিযোগ ◈ নির্বাচনে এনসিপি অংশ নেবে কিনা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে : আসিফ মাহমুদ (ভিডিও) ◈ যে যাই বলুক, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন: ড. ইউনূস ◈ আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করা হয়নি: সিইসি ◈ ইসি থেকে সুখবর পেলেন বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু ◈ দেশীয় স্পিনিং শিল্প রক্ষায় সুতা আমদানির শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ ◈ ইতালির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট দল ঘোষণা, অধিনায়ক প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় ◈ জামায়াত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ-এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করছেন: অভিযোগ ফখরুলের (ভিডিও) ◈ ২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির, কোন আসনে কে লড়বেন ◈ সিইসির সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:১৮ রাত
আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৩৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসি থেকে সুখবর পেলেন বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু

নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানিতে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা–সোনাগাজী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শেষে সিদ্ধান্তটি দেওয়া হয়।

আপিল শুনানি গ্রহণ করেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা থাকল না এই শিল্পপতির।

এর আগে একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। 

আপিলে অভিযোগ করা হয়, আবদুল আউয়াল মিন্টু মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার না করেই নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য গোপন করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

আপিলে ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হককেও বিবাদী করা হয়। আপিলে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার পরও মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

ইসিতে আপিল শুনানিতেও মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়ায় দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, ইসির রায়ের মাধ্যমে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সত্যের জয় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী স্বস্তিবোধ করছে এবং ধানেরশীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।

সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞা বলেন, মিন্টুকে জয়ী করতে দলমত নির্বিশেষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘দল যার যার, মিন্টু ও ধানেরশীষ সবার’—এই মনোভাব নিয়েই মানুষ এগোচ্ছে। 

তার মতে, মিন্টু প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে ভোটের হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে এবং আওয়ামী লীগের ভোটও ধানেরশীষের দিকে ঝুঁকছে। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় এর আগে কোনো দল থেকেই হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, যা এবার বিএনপির জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব শঙ্কার মধ্যেও মিন্টু ও মানিক একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় প্রথমবারের মতো দাগনভূঞা থেকে সংসদ সদস্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে এ আসনে ফেনী সদর, সোনাগাজী, সেনবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনো দাগনভূঞা থেকে এমপি নির্বাচিত হননি। 

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আবুল বাসার, ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ কৌরেশী, ২০১৮ সালে আকবর হোসেন, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে রিন্টু আনোয়ার এবং ১৯৭০, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াত থেকে মকবুল আহমদ নির্বাচন করলেও কেউ এমপি হতে পারেননি। 

প্রতিবারই দাগনভূঞা থেকে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অন্য উপজেলা থেকে। এবার প্রথমবারের মতো বিএনপি বা জামায়াত—যিনিই বিজয়ী হন, দাগনভূঞা থেকেই এমপি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ঘিরে রয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ভোটারদের মতে, মিন্টু ও মানিকের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ফেনী-৩ আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন— বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতের ফখরুদ্দিন মানিক, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আবদুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী।

এই আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ১১ জন। এর মধ্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেন। আসনটিতে মোট ভোটার পাঁচ লাখ তিন হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৪৩ হাজার ২৮৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৬১টি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়