শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ০৬:২৭ বিকাল
আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ০৬:২৭ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: জুয়েনা আজিজ 

এসডিজি

মনজুর এ আজিজ : সরকারের পক্ষে এককভাবে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন। পাশাপাশি ২০৪১ এর উন্নত বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্নকে লালন করে তা বাস্তবায়নে সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি এফেয়ার্স এর প্রধান সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ও একাডেমিয়াসহ সকলকে নিয়ে একসাথে কাজ করলে দ্রুত সমফলতা পাওয়া যাবে। যদিও বর্তমান সরকার ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। 

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিই সেন্টারের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের প্রফেসর আব্দুল্লাহ ফারুক কনফারেন্স হলে ‘রোল অব ইউনিভার্সিটিস ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) রিয়েলইজেশন’  শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করাই ছিল এই সেমিনারের মূল লক্ষ্য। এই সেমিনারে এসডিজি নেটওয়ার্ক অব ফিউচার লিডারস নামক একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়। এটির মূল ধারনাটি হলো আলোচনা, বিতর্ক, আইডিয়া তৈরি, সমস্যা সমাধানের মানসিকতা ইত্যাদির মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়নে একটি কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করা।

আইসিই সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মো. রাশেদুর রহমানের সঞ্চালনায় এই আয়োজনে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিপাবলিক অব কোরিয়ার এম্বাসেডর লি জাং-কিউন, বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনিস্টিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টির পরিচালক অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম, প্রথম আলোর ডেপুটি এডিটর সাইফুর রহমান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট  কামরান টি রহমান এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইসিই সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক।

সেমিনারে লি জাং কিউন বলেন, শুধুমাত্র আইডিয়া না বরং এর হাত ধরে বাংলাদেশ এবং বিশ্বে পরিবর্তনের সুবাতাস বয়ে যাওয়াই হোক সকলের প্রত্যাশা। তিনি বাংলাদেশ এবং কোরিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগের প্রকল্প ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ইউনিভার্সিটিস ইন বাংলাদেশ টু প্রমোট ইয়োথ এন্টারপ্রিনিআরশিপ’ যেটির বাস্তবায়নে কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসি সেন্টার। সেটির উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বিক এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সকলের একসাথে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের বৃহৎ জনসংখ্যাকে আইসিটির সাথে সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করতে পারলে আগামী দিনের যেকোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য সেটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

ড. ফখরুল আলম মনে করেন, আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং ফিউচার চেইঞ্জ মেইকার তৈরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবে বদ্ধ পরিকর। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটা প্রতিষ্ঠান যেটাকে আইডিয়া এবং আইডিয়েলজি তৈরির বাতিঘর বলা যায়। টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণামুখী হতে সবাইকে আহবান জানান তিনি। 

কামরান টি রহমান তার বক্তব্যে এশিয়ার জলবায়ু কেন্দ্রিক চ্যালেঞ্জকেকে উল্লেখ করে এই বিষয়ে তারুণ্যের আইডিয়া এবং তার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন নতুন বিজনেস মডেল তৈরি এবং মার্কেটাইজ করার ব্যাপারে আহবান জানান। 

সাইফুর রহমান তার বক্তব্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মিডিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, সকলকে একসাথে কাজ করার জন্য আইসিই সেন্টারের প্রচেষ্টা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবীদার। শিক্ষার্থীদের চিন্তন মননের উৎকর্ষ সাধনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই ক্ষেত্রে সকলের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারার ব্যাপারে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, শিল্প বিপ্লব এবং ফরাসি বিপ্লব পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে। এই উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ছিল মুখ্য। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি টাকার চেয়ে ইতিবাচক মাইন্ডসেটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। 

সেমিনার শেষে এসডিজি রিয়েলাইজেশান বিষয়ক পূর্ব আয়োজিত একটি রচনা প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণীপর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এসডিজি বিষয়ক বিভিন্ন চিন্তা এবং মতামত শেয়ার করে।

এমএএ/এএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়