শিরোনাম
◈ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, শপথ আজ সন্ধ্যায় ◈ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের নির্দেশনা ◈ শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বাজেট বাস্তবায়ন করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী ◈ জিন্নাহর গোপন রোগের তথ্য ফাঁস, ৭৯ বছর পর পুরস্কৃত দুই চিকিৎসক ◈ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ◈ ইতালি রোমের আলোচিত ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে যা বললেন নগরবাউল জেমস! ◈ ডলারের দাম অপরিবর্তিত, সপ্তাহজুড়ে ওঠানামা পাউন্ড-ইউরোসহ অন্যান্য মুদ্রায় ◈ বিলের পানিতে হাঁস পালন করে বদলাচ্ছে নড়াইলের তরুণদের ভাগ্য, ডিমের বাজার ২২ কোটি টাকা! ◈ ‘ভুয়া’ খবর বিষয়ক সতর্কবার্তা দিল ভারতীয় হাইকমিশন ◈ পরিবারের বড় ছেলে, যার কাঁধে অনেক দায়িত্ব: মির্জা ফখরুলকে নিয়ে জামাতা ফাহাম

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রথমবার আন্তর্জাতিক ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর পথে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে নিজেকে উপস্থাপন ও বিপণন শুরু করতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড হিসেবে চীনের প্রস্তাবিত 'পান্ডা বন্ড' ইস্যু করার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বাংলাদেশ। 

এই বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করছে সরকার।

প্রচলিত মার্কিন ডলারভিত্তির ইউরোবন্ডের পাশাপাশি চীনা মুদ্রায় পান্ডা বন্ড ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি পর্যালোচনা এবং বন্ডের কাঠামো, ইস্যুর সময় ও পরিমাণ ইত্যাদি পর্যালোচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করবে কমিটি।

 বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে ঋণগ্রহীতা আর্জেন্টিনা ও শ্রীলঙ্কার বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তখন সরে আসে সরকার। এখন সরকার পান্ডা বন্ড বা ইউরোবন্ড—যে ধরনের সার্বভৌম বন্ডই ইস্যু করুক না কেন, তা খুবই সতর্কভাবে করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।   

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের বিকল্প অর্থায়ন অনুসন্ধান-বিষয়ক সভায় আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড হিসেবে পান্ডা বন্ড ইস্যুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বন্ড ইস্যুর বিষয় পর্যালোচনা করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেছে অর্থ বিভাগ।

কমিটিতে অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কর্মকর্তারা থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত সভার কারযবিবরণী অনুসাড়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান চীনা মুদ্রায় পান্ডা বন্ড ইস্যুর পক্ষে মতামত তুলে ধরে বলেন, 'প্রচলিত মার্কিন ডলার-ভিত্তিক ইউরোবন্ডের পাশাপাশি চীনা রেনমিনিবিতে (আরএমবি) পান্ডা বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। 

'প্রথম ইস্যুটি তুলনামুলকভাবে ছোট পরিমাণে রাখা বিচক্ষণ হবে—আনুমানিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমতুল্য—যাতে বাজারের প্রতিক্রিয়া যাচাই করা যায় এবং ঝুঁকি সীমিত পর্যায়ে রাখা যায়।'

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে যাওয়ার আগেই চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পান্ডা বন্ড চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা সফর করে। পরে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে চীন সরকারের পক্ষ থেকে পান্ডা বন্ড চালুর বিষয়টি এজেন্ডায় রাখা হয় বলে জানিয়েছে সূত্র।

ইআরডি সেক্রেটারি মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী সভায় জানান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কিছু দেশ সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করেছে। আন্তর্জাতিক মুলধন বাজারে বাংলাদেশের ফুটপ্রিন্ট স্থাপনের সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে বাংলাদেশ সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করতে গেলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে উদ্বেগ আসতে পারে উল্লেখ করে ইআরডি সেক্রেটারি বলেন, বাংলাদেশ পান্ডা বন্ড ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করলে চীন সহায়তা করতে আগ্রহী।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত। বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের ইক্যুইটি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের একটি উদ্যোগ চলমান রয়েছে। হংকংভিত্তিক এই ফান্ড গঠিত হলে ব্যক্তি খাতে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মূলধন হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রস্তাবিত এই ইক্যুইটি ফান্ডের সমান্তরালে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনার বিষয়ে অনুসন্ধান চলতে পারে উল্লেখ করে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।    

সভায় পর্যালোচনা করা হয় যে, আসন্ন মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল, বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা ও ঋণ ধারণ সক্ষমতা যাচাইয়ে (ডিএসএ) ইউরোবন্ড বা আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন হবে। এ বিষয়ে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের কাছে আগাম ইঙ্গিত প্রদানের পক্ষে মত দেন তারা।

সভায় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বন্ড ইস্যু-সংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনায় অতীতে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে উৎসাহী ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনরায় বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।

অর্থ সচিবের মতে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বাংলাদেশের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং উন্নত করা প্রয়োজন, যাতে বাজারে অনুকূল সুদের হারে বন্ড ইস্যু করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, 'যেহেতু বাংলাদেশের জন্য এটি হবে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড, সে কারণে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি পর্যালোচনা ও বন্ডের কাঠামো, ইস্যুর সময়, মুদ্রা, পরিমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।'

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর টিবিএসকে বলেন, ২০১৪-১৫ সালেও সরকার সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ইমেজ আরও ভালো ছিল। কিন্তু চোখের সামনে শ্রীলঙ্কা ও আর্জেন্টিনার সার্বভৌম বন্ড বা ঋণ নেওয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার তখন ফিরে আসে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঋণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, বিদেশ থেকে সার্বভৌম গ্যারান্টি দিয়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে সেই অর্থের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কোথায় এই অর্থ ব্যয় হবে এবং তার ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। 

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, 'অনেক দেশ আন্তর্জাতিক মূলধন বাজার থেকে ঋণ নেয় না। কারণ এসব ঋণের সুদহার বাণিজ্যিকভাবে নির্ধারিত হয়। মার্কিন ডলারে ঋণ নিলে তার সুদের হার ইউএস ট্রেজারি বিলের রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ যুক্ত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ রেট কেমন হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিংয়ের ওপর।'

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়