শিরোনাম
◈ পাঁচ বছরে সাড়ে আট লাখ থেকে তিন লাখ, শেয়ারবাজারে নিঃস্ব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা! ◈ একসময় চারদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থক দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে: সাকিব আল হাসান ◈ বাংলাদেশের 'হিন্দুদের অবস্থা' দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস যেভাবে প্রচারণা চালিয়েছে ◈ ১১০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেলে বাড়তি কর, অটোরিকশাও আসছে আয়করের আওতায়, বছরে রাজস্ব আসতে পারে ১৫২০ কোটি টাকা ◈ এবার শিক্ষকদের জন্য যে সতর্ক বার্তা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ◈ স্মার্ট আইডিয়াই বিশ্ব শাসন করছে, সময়োপযোগী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব কমানো সম্ভব নয়: তারেক রহমান ◈ রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে লাঠিপেটা, তোলপাড় সামাজিক মাধ্যমে ◈ ৭১৭টি রাষ্ট্রীয় মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ থালাপতি বিজয়ের ◈ হামের ভয়াবহতার মধ্যে ভয় দেখাচ্ছে ডেঙ্গু! ◈ কুমিল্লায় বারান্দার গ্রিলে ঝুলন্ত যুবকের ভিডিও ভাইরাল, পরে মিলল ভিন্ন তথ্য

প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২৬, ০২:০৭ দুপুর
আপডেট : ১২ মে, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আইপিও সংকট, উচ্চ সুদহার ও অনিশ্চয়তায় চাপে শেয়ারবাজার

পাঁচ বছরে সাড়ে আট লাখ থেকে তিন লাখ, শেয়ারবাজারে নিঃস্ব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা!

জাগোনিউজ প্রতিবেদন: ঢাকার মতিঝিলে ব্রোকারেজ হাউসের বড় মনিটরজুড়ে তখন শুধু লাল আর লাল। সূচক কমছে, কমছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দামও। দুপুরের দিকে অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী মিজানুর রহমান। মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। পাঁচ বছর আগে লাভের আশায় শেয়ারবাজারে এসেছিলেন তিনি। এখন সেই বিনিয়োগই যেন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, করোনা মহামারির পর থেকেই বাজার মন্দার মধ্যে আছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কয়েকদিন বাজারে বড় উত্থান দেখা গেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে আবারও দরপতন হয়েছে। আমার মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারী হয়েছে। প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। বর্তমানে সেই বিনিয়োগ কমে তিন লাখ টাকায় চলে এসেছে।

তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকার এলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে, এই আশায় ছিলাম। শুরুতে কিছুটা ভালো অবস্থাও ছিল। কিন্তু এখন আবার টানা দরপতন চলছে। যে ক্ষতির মধ্যে পড়েছি, তা হয়তো আর কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবো না। এখন শুধু চেষ্টা করছি লোকসান কিছুটা কমানোর। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি কিছুতেই ভালো হচ্ছে না। দিন যত যাচ্ছে হতাশা বাড়ছে।

মিজানুর রহমানের এই হতাশা শুধু একজন বিনিয়োগকারীর গল্প নয়, দেশের পুঁজিবাজারে এখন লাখো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অভিজ্ঞতাই প্রায় একই। মাঝেমধ্যে সূচকের সাময়িক উত্থান দেখা গেলেও বাজারে স্থায়ী আস্থা ফিরছে না। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, কমে যাওয়া লেনদেন, নীতিগত অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপ সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে হতাশা আরও গভীর হচ্ছে।

ফলে দুপুর গড়াতেই মতিঝিলের অনেক ব্রোকারেজ হাউস কিছুটা নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। বড় স্ক্রিনে নীরবে চলতে থাকে লাল-সবুজের ওঠানামা। কোথাও সামান্য উত্থান, কোথাও হঠাৎ পতন। গত কয়েক মাসে দেশের পুঁজিবাজারে কয়েক দফা লেনদেন বেড়েছে, সূচকেও কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। কিন্তু সেই গতি টেকেনি। বাজারে সাময়িক আশাবাদ তৈরি হলেও খুব দ্রুতই আবার বিক্রির চাপ বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনও আস্থাহীনতায় ভুগছেন।

একটি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারের সঙ্গে আছি। ২০১০ সালের ধসের আগে মতিঝিলের সব ব্রোকারেজ হাউসে বিনিয়োগকারীদের সরব উপস্থিতিতে এক ধরনের উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করতো। এখন আর সেই দৃশ্য নেই। মাঝে বাজার কিছুটা ভালো হলে হাউসে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা কিছুটা বাড়ে। কিন্তু বাজার পতনের মধ্যেই থাকায় আবার বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা কমেছে।

তিনি বলেন, এখন প্রায় দিন লেনদেনের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু লেনদেনের সময় ১-২ ঘণ্টা পার হতেই দরপতনের পাল্লা ভারী হয়। ফলে সকালে যেসব বিনিয়োগকারীদের মুখে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা যায়, দুপুরেই তাদের মুখ মলিন হয়ে যায়। অধিকাংশ দিনই ব্রেকারেজ হাউস থেকে বের হওয়ার সময় বিনিয়োগকারীদের মুখে হতাশের চিত্র ফুটে উঠছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট শুধু পুঁজিবাজারের নিজস্ব সমস্যা নয়, বরং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, ডলারের চাপ, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভালো আইপিও না আসার সম্মিলিত প্রভাব এখন বাজারে পড়ছে।

তাদের মতে, কেবল সূচক বাড়িয়ে বা কয়েকদিনের জন্য লেনদেন বাড়িয়ে বাজারে স্থায়ী আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কম সুদহার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন।

তারা বলছেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকট মূলত আস্থার সংকট। আর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগই নয়, পুরো অর্থনীতিকেই স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ, অর্থনীতি যখন অনিশ্চয়তায় থাকে, তখন শেয়ারবাজারও অনিশ্চয়তার বাইরে থাকতে পারে না।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দেখা গেলেও সেটিও এখন আবার কমে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার অভাব বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সতর্ক করে তুলেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নীতিগত ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেন। কিন্তু বাজারে সেই বার্তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এটা শুধু শেয়ারবাজারের সংকট নয়
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান আস্থাহীনতার মূল কারণ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট কেন কাটছে না-এর উত্তর খুঁজতে হলে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা দেখতে হবে। দুই-তিন বছর ধরে অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদহার বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা—সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী আরও বলেন, আমাদের মূল্যস্ফীতি এখনো প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি। ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ পর্যন্ত চলে গেছে। এত উচ্চ সুদে ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন। শিল্প উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলারের উচ্চ মূল্য ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। জ্বালানি খাতে চাপও কমেনি। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, ব্যবসায়ীদের মুনাফা কমেছে।

তার ভাষায়, আজকের সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি। গত কয়েক বছরের জমে থাকা সমস্যাগুলো এখন একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে।

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিরও প্রভাব

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়ছে, আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এগুলো অর্থনীতিতে নেতিবাচক চাপ তৈরি করছে। পুঁজিবাজারও এর বাইরে নয়। অর্থনীতির এই সংকট কাটিয়ে না উঠলে বাজারে হঠাৎ বড় উত্থান আশা করা বাস্তবসম্মত নয়- বলে মনে করেন বিএসইসির সাবেক এই চেয়ারম্যান।

বিনিয়োগ না বাড়লে বাজারও বাড়বে না

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। নতুন কারখানা হচ্ছে কম, শিল্প সম্প্রসারণও ধীরগতির। ফলে কোম্পানিগুলোর নতুন মূলধনের চাহিদাও কমে গেছে।

তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির যদি নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন না হয়, উৎপাদন না বাড়ায়, তাহলে তারা পুঁজিবাজারে আসবে কেন? পুঁজিবাজার তো মূলধন সংগ্রহের জায়গা।

তার মতে, পুঁজিবাজারকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত না হলে বাজারেও স্থায়ী গতি আসবে না।

বাজারে ‘ভালো পণ্য’ নেই

মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে দীর্ঘস্থায়ী আস্থাহীনতার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে মানসম্পন্ন নতুন কোম্পানির অভাব। স্টক মার্কেট আসলে একটা বাজার। বাজারে যদি ভালো পণ্য না থাকে, তাহলে মানুষ কেন আসবে?

তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো আইপিও আসেনি। অথচ পুঁজিবাজারের মূল কাজই হচ্ছে নতুন কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা। আমরা এখন শুধু সেকেন্ডারি মার্কেট নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু স্টক মার্কেটের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাইমারি মার্কেট।

তার মতে, বাজারে ভালো ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি না আসায় বিনিয়োগকারীদের সামনে আকর্ষণীয় বিকল্প কমে গেছে। ফলে একই সীমিত সংখ্যক শেয়ার ঘিরেই জল্পনা-কল্পনা তৈরি হচ্ছে।

‘ফান্ডামেন্টাল’ নয়, বাড়ছে জল্পনায়

আশিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব শেয়ারের দাম বেড়েছে, তার অনেকগুলোর পেছনে শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি নেই। অনেক স্মলক্যাপ ও মিডক্যাপ শেয়ারের দাম বেড়েছে, কিন্তু কোম্পানির আয় বা ব্যবসায়িক বাস্তবতা সেই বৃদ্ধি সমর্থন করে না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কিছু কোম্পানির মুনাফা কমে যাওয়ার পরও শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, বাজারের একটি অংশে এখনও কারসাজি ও অতিরিক্ত জল্পনাভিত্তিক লেনদেন রয়েছে।

তার ভাষায়, যখন এসব শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে যায়, তখন বড় বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিয়ে সরে যান। এরপর বাজার আবার পড়ে যায়।

কেন টেকে না বাজারের গতি?

গত কয়েক মাসে বাজারে কয়েকবার লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছালেও সেই গতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আশিকুর রহমান মনে করেন, এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে বাজারে আস্থার ঘাটতি।

তিনি বলেন, যখনই বাজারে একটু বেশি অংশগ্রহণ দেখা যায়, তখন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিয়ে সাইডলাইনে চলে যান। কারণ তারা জানেন, এই বাজারে টেকসই গতি তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।

তার মতে, বাজার এখন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ওঠানামা করছে। কিছুদিন বাড়ছে, আবার কিছুদিন পরই পড়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বাড়ছে।

উচ্চ সুদহার বড় বাধা

বর্তমানে ব্যাংক আমানত ও সরকারি ট্রেজারি বন্ডে সুদের হার বেড়ে যাওয়াও পুঁজিবাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আশিকুর রহমান বলেন, ব্যাংকের সুদ হার যদি বেশি থাকে আর অর্থনৈতিক কার্যক্রম যদি দুর্বল থাকে, তাহলে স্টক মার্কেট স্বাভাবিকভাবে বাড়ার কথা নয়। যখন ব্যাংকে ঝুঁকিমুক্তভাবে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়, তখন অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারের ঝুঁকি নিতে চান না।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা এখনো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন। অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ডলারের চাপ পুরোপুরি কমেনি। আপনি যে কোনো শিল্প উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলুন, তারা এখনো সমস্যার মধ্যেই আছেন। শিল্পখাত শক্তিশালী না হলে পুঁজিবাজারও শক্তিশালী হবে না।

ভালো আইপিও কি বাজার ঘুরিয়ে দিতে পারে?

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওকে শেয়ারবাজারের ‘নতুন রক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের শেয়ারবাজারে এই নতুন রক্ত প্রবাহ বা আইপিও আসা বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই বছর ধরে। দেশের শেয়ারবাজারে সর্বশেষ আইপিও এসেছে ২০২৪ সালের জুনে। এরপর আর কোনো আইপিও’র দেখা মেলেনি। দীর্ঘ সময় ধরে আইপিও না আসায় শেয়ারবাজারের সংকট আরও বেড়েছে।  

এখন ভালো ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির আইপিও বাজারে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শেয়ারবাজার গতিশীল করতে হলে অবশ্যই ভালো কোম্পানির আইপিও আনতে হবে। চেষ্টা করলে এখনো কিছু ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনা সম্ভব। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি এলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

আশিকুর রহমানও একই মত দেন। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে আইপিও আসছে না, এটা বাজারের সব থেকে বড় সমস্যা। মার্কেটকে টেকসই করতে হলে ভালো স্ক্রিপ্ট আনতেই হবে। নতুন ভালো কোম্পানি এলে নতুন বিনিয়োগকারী আসবে, বাজারে তারল্য বাড়বে। বাজারে নতুন শেয়ারের সরবরাহ না থাকায় গুটি কয়েক শেয়ার ঘিরে অতিরিক্ত জল্পনা তৈরি হচ্ছে।

বাজারের চিত্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ছিল ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে। নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসে এক লাফে ২০১ পয়েন্ট বেড়ে তা ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে উঠে আসে। কিন্তু এরপর সেই পুরোনো পতনের বৃত্তেই আটকে গেছে বাজার। শেষ পাঁচ কার্যদিবস (৫ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত) শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়েছে। পতনের মধ্যে পড়ে বর্তমানে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ২০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ নির্বাচনের পর ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৯৪ পয়েন্ট। এ সময়ে বাজার মূলধন কমেছে ৩৪ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়