জাগোনিউজ প্রতিবেদন: ঢাকার মতিঝিলে ব্রোকারেজ হাউসের বড় মনিটরজুড়ে তখন শুধু লাল আর লাল। সূচক কমছে, কমছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দামও। দুপুরের দিকে অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী মিজানুর রহমান। মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। পাঁচ বছর আগে লাভের আশায় শেয়ারবাজারে এসেছিলেন তিনি। এখন সেই বিনিয়োগই যেন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, করোনা মহামারির পর থেকেই বাজার মন্দার মধ্যে আছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কয়েকদিন বাজারে বড় উত্থান দেখা গেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে আবারও দরপতন হয়েছে। আমার মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারী হয়েছে। প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। বর্তমানে সেই বিনিয়োগ কমে তিন লাখ টাকায় চলে এসেছে।
তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকার এলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে, এই আশায় ছিলাম। শুরুতে কিছুটা ভালো অবস্থাও ছিল। কিন্তু এখন আবার টানা দরপতন চলছে। যে ক্ষতির মধ্যে পড়েছি, তা হয়তো আর কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবো না। এখন শুধু চেষ্টা করছি লোকসান কিছুটা কমানোর। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি কিছুতেই ভালো হচ্ছে না। দিন যত যাচ্ছে হতাশা বাড়ছে।
মিজানুর রহমানের এই হতাশা শুধু একজন বিনিয়োগকারীর গল্প নয়, দেশের পুঁজিবাজারে এখন লাখো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অভিজ্ঞতাই প্রায় একই। মাঝেমধ্যে সূচকের সাময়িক উত্থান দেখা গেলেও বাজারে স্থায়ী আস্থা ফিরছে না। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, কমে যাওয়া লেনদেন, নীতিগত অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপ সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে হতাশা আরও গভীর হচ্ছে।