শিরোনাম
◈ ২০৩০ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৫% কার্বন কর আরোপ করবে ইইউ ◈ ব্যাংকঋণে শীর্ষে সরকার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার খাতে বাড়বে ভর্তুকি ◈ ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে মাঠে চীন-পাকিস্তান, ৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ ◈ সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব ◈ সিঙ্গাপু‌রের কা‌ছে এক গো‌লে হে‌রে এশিয়ান কাপ বাছাই শেষ করলো বাংলাদেশ ◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫৪ রাত
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

২০৩০ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৫% কার্বন কর আরোপ করবে ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, কার্বন নিঃসরণ কমানো না হলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর প্রায় ৫ শতাংশ কার্বন কর আরোপ করা হতে পারে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সরবরাহ চেইনে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ইইউ সম্প্রতি কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) চালু করেছে।

২০৩০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতকেও এই কাঠামোর আওতায় আনা হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে বর্তমান কার্বন নিঃসরণের মাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের পর পোশাক রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত ৪.৮ শতাংশ কার্বন কর আরোপ করা হতে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ ইমরাজ কবিরের যৌথ গবেষণায়ে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২৯ মার্চ সিপিডির ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এই অতিরিক্ত কর এমন এক সময়ে আরোপ হতে যাচ্ছে, যখন বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের কারণে ইউরোপের বাজারে চলমান শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হরাতে যাচ্ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। এর সঙ্গে কার্বন করের আরও ৪.৮ শতাংশ যুক্ত হলে মোট শুল্ক বেড়ে প্রায় ১৭ শতাংশে দাঁড়াবে। ‘ইইউ কার্বন ট্যাক্স: পসিবল ইমপ্লিকেশনস ফর বাংলাদেশস অ্যাপারেল এক্সপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউ- সিবিএএম পদ্ধতিতে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর কার্বন করের পরিমাণ ৪.৮ শতাংশ হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, পোশাকের ওপর ইইউ-এমএফএন আমদানি শুল্ক যদি ১২.১ শতাংশ ধরা হয়, তবে মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৬.৯ শতাংশ (১২.১% + ৪.৮%)। ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি ইইউ যদি ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা বাড়িয়েও দেয়, তবু তৈরি পোশাক খাতকে ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ৪.৮ শতাংশ সিবিএএম কর দিতে হতে পারে, যদি এই খাতটিকে মেকানিজমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে যে পরিমাণ কার্বন নি:সরণ হয়, তার ভিত্তিতে আমরা প্রাক্কলন করে এ হিসাব পেয়েছি। অবশ্য দেশের তৈরি পোশাকের খাতের উদ্যোক্তারা এ নিয়ে বিচলিত নন। তারা বলছেন, অনেক কারখানা ইতিমধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারসহ পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু করেছে। বাদবাকি কারখানাগুলোও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে। 

দেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ইইউর শর্ত অনুযায়ী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমাদের বেশ কিছু কারখানা তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রিনিউয়েবল এনার্জিসহ অন্যান্য পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি বলেন, যেসব ছোট ও মাঝারি কারখানা এখনো এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেনি, তারা কীভাবে শর্ত পূরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে তারা সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন। 

ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) কারখানার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। বর্তমানে দেশে এমন প্রায় ৩০০টি কারখানা রয়েছে। অবশ্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যমান পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলো ইইউর সব শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও এটি বড় অগ্রগতি।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করতে এবং যারা তা করবে না তাদের জরিমানার আওতায় আনতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে সিবিএএম চালু করে ইইউ। প্রথমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সিমেন্ট, সার ও ইস্পাতের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আমদানি করা সব পণ্যকেই এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে ইইউয়ের। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির পাঁচ ভাগের চার ভাগের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর এই রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি যায় ইইউর বাজারে। তাই এই নতুন নিয়মটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ : প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ইইউর বাজারে সম্ভাব্য কার্বন কর এড়াতে বাংলাদেশকে অবশ্যই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য প্রণোদনাসহ বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি আমদানিতে শুল্ক কমানোর মতো রাজস্ব প্রণোদনা এবং ইটিপি স্থাপনে ভর্তুকিযুক্ত ঋণের মতো আর্থিক সহায়তা প্রদান।

পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সিবিএএমের প্রভাব পর্যালোচনার জন্য একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা, দেশের ভেতরে কার্বন প্রাইসিং ব্যবস্থা চালু করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি জোরদার করা। এছাড়া সিবিএএম যেন কোনোভাবেই উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য সুরক্ষাবাদী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়