শিরোনাম
◈ ১৮ মাস পর নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরলেন ড. ইউনূস ◈ পরাজয় দিয়ে মৌসুম শুরু ‌মে‌সির ইন্টার মায়ামির ◈ নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, পোশাক খাতে শঙ্কা: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বিশ্লেষণ ◈ পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ◈ বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচন কবে নাগাদ, জানালো ইসি ◈ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বিষয়ে সভা ◈ জামায়াত আমিরের স্ত্রীসহ সংরক্ষিত মহিলা আসনে আলোচনায় যারা ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার আরমান! ◈ মদকাণ্ডে আটকের খবরে তোলপাড়, যা বললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী!

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৪ দুপুর
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার আরমান!

সূত্র: বণিক বার্তা

সহযোগীদের খবর: নগদকে নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় দেয়ার পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি দেশী-বিদেশী বহুজাতিক বিনিয়োগ সংস্থার স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। বিনিয়োগ আগ্রহের ধারাবাহিকতায় গভর্নর বরাবর নগদের ফরেনসিক অডিট করার আবেদন করেছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি এ আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়েছেন। সূত্র: বণিক বার্তা প্রতিবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার আরমান। ২০১৬ সালে তিনি গুমের শিকার হন এবং দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘর’-এ বন্দি ছিলেন। চব্বিশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান। ব্যারিস্টার আরমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।

নগদে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যারিস্টার আরমানের আগ্রহ বিভিন্ন মহলে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে গভর্নরকে এমন বিনিয়োগ বিষয়ে চিঠি দেয়া নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ব্যারিস্টার আরমানের দাবি, তার পরিচিত বিদেশী বিনিয়োগকারীরাই মূলত এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন বিনিয়োগ, প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞরা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঠানো চিঠির শুরুতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি লিখেছেন, প্রথমেই ‘নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস’ বিষয়ে আমাকে দেয়া আপনার মূল্যবান সময় ও গঠনমূলক পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনি অবগত আছেন যে ওই বৈঠকটি আমার অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্স প্রাপ্তির লক্ষ্যে আপনার সহায়তা পাওয়া। দেশের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, ডিজিটাল ও ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী আর্থিক সেবা প্রদানই আমার স্বপ্ন ও লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে কিছু সম্ভাব্য বিদেশী প্রতিনিধিও আমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তারা এ ধরনের ব্যবসায় বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে ব্যারিস্টার আরমান লিখেছেন, ওই বৈঠকে আমি জানতে পারি যে নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) শেষে এটি নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এমন একটি বিকল্প পেলে তা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও বড় সুযোগ হবে।

গভর্নরকে দেয়া চিঠিতে ব্যারিস্টার আরমান আরো উল্লেখ করেছেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তারা মূল্যায়নের (নগদে বিনিয়োগ) পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে প্রস্তুত। এর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ডিজিটাল আর্থিক সেবাটির আর্থিক, পরিচালনগত ও ব্যবসায়িক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সমন্বিত ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এর শক্তি, দুর্বলতা ও ঝুঁকিগুলো নিরূপণ হবে। ফলে নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এর প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য তাদের একটি ফরেনসিক অডিট পরিচালনার অনুমতি দেয়ার জন্য গভর্নরের সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করেছেন।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘নগদ’-এর হস্তান্তর প্রক্রিয়াসংক্রান্ত কোনো কিছু সম্পর্কেই তিনি জ্ঞাত নন।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ‘নগদ’-এর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটি আমার জানার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত গভর্নর স্যার কিংবা অন্য কেউ আমাকে কিছু জানাননি। হয়তো বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’

নগদের মালিকানা হস্তান্তর হলে সেটির প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে সে বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নগদ-এর মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটির জন্য দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা মালিকানা পাবে, এটিই প্রচলিত রীতি। টেন্ডার আহ্বান ছাড়া কোনো ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে নগদ-এর মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে আলাপ-আলোচনার সুযোগ নেই।’

বিনিয়োগের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। এ বিশেষজ্ঞ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তিনি (ব্যারিস্টার আরমান) দীর্ঘ সময় গুম ছিলেন, আয়নাঘরে ছিলেন।

ফলে তার এমন বড় আকারের বিনিয়োগ, এ অর্থের উৎস, আইনি ও নীতিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা চাই কোনো ব্যক্তির হাত ধরে কোনো প্রতিষ্ঠান আরো বেশি প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই যাতে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি না হন, সেটাও বিবেচনা করা উচিত।’

দেশের আর্থিক খাতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ‘নগদ’-এর যাত্রা ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ। শুরু থেকে এটি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সেবা বলা হলেও মূলত কোম্পানিটির মালিকানা ছিল থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি নামের একটি কোম্পানির হাতে। আর এ কোম্পানির মালিকানা ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ও ব্যবসায়ীর। বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়াই এমএফএস-সংক্রান্ত রীতিনীতি উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালায় ‘নগদ’।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে ওই মাসেই ‘নগদ’-এর পর্ষদ ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে কোম্পানিটিতে প্রশাসক বসানো হয়। সে সময় প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদারকে। পরবর্তী সময়ে এ পদে মো. মোতাছিম বিল্লাহকে নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পরিচালক ‘নগদ’-এর প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

পর্ষদ ভেঙে দেয়ার পর বিশেষ নিরীক্ষায় ‘নগদ’-এ ভুয়া পরিবেশক ও এজেন্ট দেখিয়ে আর্থিক জালিয়াতি এবং অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক অর্থ বা ই-মানি তৈরি করার ঘটনা উঠে আসে। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরীক্ষায় ‘নগদ’-এর ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি। ভুয়া ই-মানি ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অনিয়মের ঘটনায় ‘নগদ’-এর উদ্যোক্তাসহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও নগদ সূত্র জানায়, গত এক বছরে ‘নগদ’-এর মালিকানায় যুক্ত হওয়ার জন্য দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে। আবার অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পক্ষকে মালিকানায় যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রস্তাবই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আবার ‘নগদ’-এর বর্তমান বাজারমূল্য কত সেটিও কোনো নিরীক্ষার মাধ্যমে বের করা হয়নি। তবে বিশ্ববিখ্যাত অডিট প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির মাধ্যমে ‘নগদ’-এর সম্পদের মানের ফরেনসিক নিরীক্ষা করিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‘নগদ’-এর সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন এমএফএসটির মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। গত মাসে (জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নগদ’-এর মালিকানা হস্তান্তরের যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোর আইনি কোনো ভিত্তি নেই। কারণ প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ শেয়ার এখনো ‘নগদ লিমিটেড’-এর নামে। আর নগদ লিমিটেডের মালিকানায় রয়েছেন পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ীরা। এখন নগদ লিমিটেড হস্তান্তর করতে হলে আগে এর শেয়ার সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। সরকার বা ডাক বিভাগ যখন প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণ মালিকানা পাবে, একমাত্র তখনই এর মালিকানা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রশ্ন আসবে।

২০১৬ সালে যখন থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এর নেতৃত্বে ছিলেন তানভীর আহমেদ মিশুক। পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন কাজী মনিরুল কবির, সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সৈয়দ আরশাদ রেজা ও মিজানুর রহমান। তবে নগদের কার্যক্রম শুরুর আগেই অংশীদারদের কেউ কেউ থার্ড ওয়েভের শেয়ার ছেড়ে দেন। এর মধ্যে কাজী মনিরুল কবির শেয়ার ছেড়ে দিলে মালিকানায় যুক্ত হন আওয়ামী লীগের তৎকালীন দুই সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। যোগ দেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের স্ত্রী রেজওয়ানা নূরও। পরে অবশ্য তিনিও মালিকানা ছেড়ে দেন। বর্তমানে নগদ লিমিটেডের পরিচালক নয়জন, যারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত কোম্পানির প্রতিনিধি। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সিঙ্গাপুরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। অন্য ছয়জন বাংলাদেশী।

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নগদের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নেয়া বা নতুন করে বিনিয়োগ করলে তার আকার হবে বড়। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। উল্লেখ্য, নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে ব্যারিস্টার আরমানের সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি টাকা। তাই নগদের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে তার আগ্রহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বহুজাতিক বিনিয়োগ সংস্থার স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। নগদে বিনিয়োগে আগ্রহ ও ফরেনসিক অডিটের অনুরোধ বিষয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর পাঠানো তার চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশী-বিদেশী বহুজাতিক বিনিয়োগ সংস্থার স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে আমরা কাজ করছি। আমরা মনে করি দেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বিদেশী বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাট করে আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদকে শেষ করে দিয়েছে। ভালো বিনিয়োগকারী পেলে তাদের হাতে নগদের ব্যবস্থাপনা বুঝিয়ে দেয়া হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আমরা মূলত চাচ্ছি দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করতে। সে জন্যই কোথায় কোথায় বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়, সেটার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়