আগামী নভেম্বরে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেতে যাওয়া বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি চলতি বছর হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। যা গেল বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। আগামী বছর এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এমন পূর্বাভাসই দিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কাটাড।
যদিও বিশ্ব জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর কিছুটা কমে ২.৭ শতাংশে নামবে বলে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পূর্বাভাস মতো সুফল পেতে আগামী নির্বাচনের পর নিশ্চিত করতে হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
আঙ্কটাড বলছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। সামষ্টিকভাবে এলডিসি'র প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৪.৬ শতাংশ আর ২০২৭ সালে পৌঁছাতে পারে ৫ শতাংশে। যা ২০২৫ সালের ৩.৯ শতাংশের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও তানজানিয়ার মতো কয়েকটি বড় এলডিসিতে তুলনামূলক ভালো প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে হিসেবে সংস্থাটি বিশ্লেষণ এসব দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে, কৃষি উৎপাদন ভালো হয়েছে ও পণ্যের দাম অনুকূলে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘আঙ্কাটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এবং বিশ্বব্যাংকও বলেছে সেটি হতে পারে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া আইএমএফ বলছে, ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে সব কিছু নির্ভর করছে নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। এবং সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন হয় কিনা সেটাও এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়।’
জাতিসংঘের করা এই ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক সিচুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টাস- ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ২.৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের আনুমানিক ২.৮ শতাংশের চেয়ে কিছুটা কম এবং মহামারির আগে গড় প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশের তুলনায় বেশ কম।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরে বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো মূল্যস্ফীতি কমা এবং কয়েকটি বড় দেশের ঋণ নীতি ধীরে ধীরে শিথিল হওয়া। যা চাহিদা বজায় রাখতে ও বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পরিবর্তনশীল বাণিজ্য নীতির মধ্যেও প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।