শিরোনাম
◈ ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে টাকা আসছে কলকাতায়, উসকানি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ থেকে: দিলীপ ঘোষ ◈ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কার্যকর ◈ নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, চালকসহ ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত ◈ ভারতের আসামে দুই দিনে ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভাঙা হলো ১০টির বেশি মসজিদ ◈ ১৪৮ দিন পর জয়ের দেখা, স্বস্তিতে টটেনহ্যাম ◈ সব ধর্মের মানুষের ঐক্যে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ অতিরিক্ত উৎপাদনে আলুর দরপতন, কেজিতে ১৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানে কৃষক ◈ মব থামছে না, দিন‌কে দিন রাজ‌নৈ‌তিক চেহারা পা‌চ্ছে, নেপথ্যে কী? ◈ গ্যাস বরাদ্দে সার ও বিদ্যুত বে‌শি গুরুত্ব পাওয়ায় দে‌শের এক হাজার শিল্পকারখানা বন্ধের উপক্রম ◈ দুর্গাপূজার মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে  প্রধানমন্ত্রী তারেক, রংপুর থেকে রাজশাহী, এরপর চট্টগ্রামে

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ০৬:১৪ বিকাল
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ০৬:১৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভুট্টার কাঁচা দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ গো-খাদ্য সাইলেজ

ভুট্টার বাম্পার ফলনে মহা খুশি জামালপুরের কৃষকরা 

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর: [২] জামালপুরের চরাঞ্চল গুলোতে ভুট্টা চাষ দিন দিন বেড়েই চলছে। ভুট্টার কঁচি গাছের সবুজ সমারোহে মেতে উঠে মাঠ। উৎপাদন খরচ কম ও অধিক ফলনের কারণে কৃষকরা আরো উৎসাহিত হচ্ছেন ভুট্টা চাষে। ভূট্টা চাষের  জন্য উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না।

[৩] প্রতি কেজি কাঁচা ভুট্টার গাছও ৫ থেকে ৬ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। যা দিয়ে তৈরি হচ্ছে সাইলেজ এবং ব্যবহার হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ গো-খাদ্য হিসেবে। বলা হয় যে, ভুট্টার সাইলেজ আয়ুর্বেদিক ওষুধের মতো। দিন যত যায় তত এর গুনাগুন বাড়তে থাকে। এই সাইলেজের টেস্ট হচ্ছে এসিডিক সুইট টেস্ট এর মতে যার মানে হচ্ছে টক-মিষ্টি ধরনের, যার জন্য গরু এটা প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকে। 

[৪] সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, বকশীগঞ্জ এবং সদর উপজেলার বুক চিড়ে প্রবাহিত যমুনা-ব্রহ্মপুত্র,দশআনী, জিনজিরামসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর চরাঞ্চলগুলোতে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভুট্টার চাষ হয়েছে। সাত উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকদের জীবনে ভুট্টা এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের পরিনত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভুট্টার ক্ষেত কৃষকদের মুখে ফুটে তুলেছে আনন্দের হাসি। আর এই ভুট্টা ক্ষেতে থাকা অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে। অল্প খরচে ভাল দাম পাচ্ছেন ভুট্টা কৃষকরা। পাশাপাশি সাইলেজ তৈরির জন্য বিক্রি হচ্ছে ভুট্টার সবুজ গাছও।

[৫] এলাকার কৃষকরা জানান, ধান, মরিচ, আলু আবাদে তাদের যে খরচ ও পরিশ্রম করতে হয় ভুট্টা আবাদে তেমন একটা হয় না। স্বল্প সেচ,সার ও শ্রমেই ঘরে উঠছে মুক্তার দানার মতো ঝঁকঝঁকে ভুট্টা। 

[৬] জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কম খরচে ভালো দাম ও ফলন পাওয়ায় ভুট্টা চাষে জোকছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। 

[৭] কৃষি বিভাগ আরও জানায়, বর্তমানে জাতের ভূট্টা ১২ মাসই চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে প্রতি একর জমিতে ১২০ থেকে ১৩০ মণ ভুট্টার ফল পাওয়া যায়। এ বছর প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে  ৪০ হাজার টাকার অধিক আয় হচ্ছে।

[৮] প্রাণিবিদদের তথ্য মতে, গো-খাদ্য হিসেবে তৈরি কৃত ভুট্টার সাইলেজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও মিনারেল এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এই খাদ্য গ্রহণের ফলে দুগ্ধদানকারী গাভীর দুধ বেড়ে যায় অনেক গুণে। কম সময় ও স্বল্প অর্থ ব্যয় হওয়ার ফলে কৃষকদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

[৯] স্থানীয় চাষী গাজী মিয়া জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদে তার খরচ হয়েছে বিশ থেকে বাইশ হাজার টাকা। এক লাখ থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি। 

[১০] চাষী জামিল মিয়া জানান, প্রতি বিঘা ভুট্টাতে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে বিক্রি করা যায় বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবাদ করাও সহজ। বিক্রি করতেও ঝামেলা নাই।

[১১] দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ গ্রামের কৃষক কাজিম উদ্দিন জানান, ভুট্টা আবাদ করে আমরা অনেক লাভবান হয়েছি। এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে ৪০ থেকে ৪৫ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়। গত বছর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। 

[১২] মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ  আব্দুল্লাহ আল-ফয়সাল জানান, ভুট্টা চাষিরা অনেক বেশি লাভবান হওয়ার কারণ এর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। ভুট্টার দানাকে আমরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারি, মুরগির খাবারেও ব্যবহার হয়ে থাকে। চরাঞ্চল গুলোতে প্রাণির খাবারের অভাব থাকার কারণে কৃষকরা ঘাস হিসেবেও ভুট্টা  বিক্রি করে থাকে। ভুট্টার অতিরিক্ত অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যাপক চাহিদা আছে। 

[১৩] এই কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, কৃষি বিভাগ ভুট্টা চাষিদের বীজ ও সার প্রণোদনা দিয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন রোগ বালাই হলে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকে।

[১৪] জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জামালপুরের নদ-নদী বিধৌত চরাঞ্চলে বেড়েছে ভুট্টার চাষ। এ বছর জেলায় গত বছরের চেয়ে লক্ষমাত্রা অতিক্রম করে ২ হাজার ২৬৮ হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে অনুকূল আবহাওয়ার জন্য বাম্পার ফলনও হয়েছে।

[১৫] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জামালপুরের ৭ উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় দুই হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ বেড়েছে।

[১৬] ইসলামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার এ.এল.এম রেজুওয়ান বলেন, ‘ভুট্টা চাষ একটি স্বল্প সময়ের লাভজনক ফসল। তাই প্রতি বছর এ অঞ্চলে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

[১৭] তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর ইসলামপুরে এক হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্ষেত  ও ফলন অনেক ভালো হয়েছে।’

[১৮] জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘এ বছর জামালপুর জেলার ৭ উপজেলায় ২০ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যার পরিমাণ গত বছর ছিল ১৮ হাজার হেক্টর।’

[১৯] তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছর আমাদের লক্ষমাত্রার চেয়ে দুই হাজার হেক্টরেরও বেশি হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। পতিত জমিতে স্বল্প সময় এবং স্বল্প খরচে লাভজন হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে চরাঞ্চলে কৃষকরা।’ 

প্রতিনিধি/একে