নারী পাচার থেকে শুরু করে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে থাকা চীনা নাগরিকদের একটি অংশ। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত চীনা নাগরিকদের গ্রেফতারের পর সামনে আসছে এসব ঘটনা। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৮ জন চীনা নাগরিক গ্রেফতার হয়েছেন।
নারী পাচার, নকল আইফোন কারখানা ও নিষিদ্ধ ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
তবে চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পুলিশের একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু চীনা নাগরিক বাংলাদেশে দালাল চক্রের সঙ্গে চুক্তি করেন। দালালদের মাধ্যমে গ্রামের সহজ সরল নারীদের বিয়ে করে চীনে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দালালরা নানা কৌশলে ওই নারীদের চীনা নাগরিকদের কাছে হস্তান্তর করতেন। এরপর এসব নারীদের থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ে বিক্রি করা হয়।
বিভিন্ন সময় নারী পাচারকালে বিমানবন্দর থেকে বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা বিগত সময়ে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত চীনা নাগরিকদের গ্রেফতার করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ফলে কিছুদিন ধরে এই ধরনের ঘটনা আর দেখা যাচ্ছে না।”
সম্প্রতি রাজধানীতে একটি নকল আইফোনের কারখানা সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, গত দেড় বছর ধরে উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় একদল চীনা নাগরিক বিদেশ থেকে আইফোনের যন্ত্রাংশ আনা ও একটি গোপন ল্যাবে সংযোজন করে ভুয়া ফোন তৈরি করত। পরে এগুলো আসল আইফোন হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হতো।
তিনি জানান, তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কিছু বাংলাদেশির নামও পাওয়া গেছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি এই তিন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার চার দিন পর, ১২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আরও একটি অভিযান চালায়। অভিযানে উদ্ধার হয় ৫০ হাজারের বেশি বিভিন্ন অপারেটরের মোবাইল সিম। একইসঙ্গে ৫ চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।
ডিসি-সাইবার উত্তরের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে জব সংক্রান্ত প্রতারণা, টেলিগ্রাম গ্রুপ প্রতারণা ও বিভিন্ন প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নাসের রিকাবদার বলেন, “গ্রেফতারকৃত প্রতারকরা কখনও চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে, আবার কখনও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত। এছাড়া তারা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ও জড়িত।”
ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিদেশি অপরাধী চক্রের মধ্যে আগে বেশিরভাগই আফ্রিকা অঞ্চলের লোক জড়িত ছিল। ইদানীং চীনা নাগরিকদের নানা অপরাধে জড়িত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব কাজে দেশের এক শ্রেণির মানুষ জড়িত।
সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডিবি ও অন্যান্য বাহিনী এ ধরনের প্রতারকদের গ্রেফতারে কাজ করছে। এছাড়া, সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।