শিরোনাম

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৮:১০ রাত
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৮:১০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ ৯টি পাটকল, ব্যায় ১৮৮ কোটি টাকা 

জাফর ইকবাল, খুলনা: [২] খুলনা- যশোর অঞ্চলে গত সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। পাটকলগুলোর যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে। এগুলোতে রয়েছেন ৯৬১ কর্মকর্তা-কর্মচারী। কাজ না থাকলেও তাদের পেছনে ব্যয় হয়েছে ১৮৮ কোটি ৪২ লাখ ৪৬ টাকা। এর মধ্যে বেতন বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও কর্মকর্তাদের যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় ৩২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

[৩] কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, পাটকলগুলো অলস পড়ে আছে। এতে যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। ভবনগুলোর আশপাশে ময়লার স্তূপ, গাছ-লতাপাতায় ছেয়ে আছে। এতে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হচ্ছে।

[৪] এসব পাটকলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গেটে তালা। গোডাউন বন্ধ। ভেতরের যন্ত্রপাতিতে মরিচা পড়েছে। একসময় শ্রমিকদের পদচারণায় সরগরম থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নীরবে পড়ে আছে। এসব কারখানায় সর্বশেষ শব্দ বেজেছিল ২০২০ সালের ৩০ জুনে। এরপর থেকে উৎপাদন হয়নি। তবে যন্ত্রপাতি দেখভালের নামে কর্মরত রয়েছেন ৯৬১ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে ৩৬০ কর্মকর্তা ও ৬০১ জন কর্মচারী। কাজ না থাকলেও তাদের পেছনে বছরের পর সরকারের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

[৫] পাটকলগুলো হলো- খুলনার আলীম জুট মিলস, ক্রিসেন্ট জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস, ইস্টার্ন জুট মিলস, খালিশপুর জুট মিলস, প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস, স্টার জুট মিলস, যশোরের কার্পেটিং জুট মিলস এবং জেজেআই জুট মিলস লিমিটেড। 

[৬] বন্ধ পাটকলগুলো কবে চালু হবে জানতে চাইলে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, ‘১৯৭২ সালে ৭৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) গঠন করা হয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে বিজেএমসি আরও চারটি পাটকল করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৮২। পরের বছর ১৯৮২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বেসরকারীকরণ নীতিমালার আওতায় ৩৫টি পাটকল সাবেক বাংলাদেশি মালিকদের কাছে শর্তসাপেক্ষে হস্তান্তর, আটটির পুঁজি প্রত্যাহার এবং সাতটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। তখনও বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণে ছিল ৩২টি পাটকল। 

[৭] ২০০২ সালে সরকার বিজেএমসির আদমজী জুট মিলস লিমিটেড ও এবিসি লিমিটেড বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছে হস্তান্তর করে। পরে শর্তভঙ্গের কারণে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মালিকানায় দেওয়া পাটকলগুলোর মধ্যে ছয়টি পুনরায় গ্রহণ করে বিজেএমসিকে দেয় মন্ত্রণালয়। দুই বছর পর ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেয় সরকার। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, সম্পত্তি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি-বিদ্যৎ ইত্যাদি খাতে মাসের পর মাস লোকসান দিচ্ছে সরকার। এগুলো কবে চালু হবে, তা আমার জানা নেই।’

[৮] একই বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর জুট মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আবুল কাশেম খোকন বলেন, ‘শ্রমিকবিহীন এসব পাটকলে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেওয়া অযৌক্তিক। হয় এগুলো চালু করতে হবে, না হয় একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে। এভাবে অর্থ অপচয়ের মানে হয় না।’

[৯] পাটকলগুলো বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনার সভাপতি কুদরত-ই-খুদা। তিনি বলেন, ‘পাটকলগুলো পাহারার নামে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। তবু সুরক্ষা মেলেনি। চোর-পাহারাদার যোগসাজশে মিলের যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে।’

[১০] এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) খুলনার সমন্বয়কারী গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বন্ধ পাটকলগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন। তাই তাদের বেতন নিয়মিত দিচ্ছে সরকার। এখানে অযৌক্তিক কোনও খরচ হচ্ছে না।’ মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর জুট মিলসের নিরাপত্তাকর্মী আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমাদের মিলের কোনও যন্ত্রপাতি চুরি হয়নি। আমরা এখানে নিয়মিত পাহারা দিই।’

[১১] প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসের নিরাপত্তাকর্মী জোহরা খানম লায়লা বলেন, ‘আমাদের মিলের দুটি ভবন জরাজীর্ণ। পলেস্তারা খসে পড়ছে। নিরাপত্তাকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ভবনগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। তবু আমরা জিনিসপত্র পাহারা দিচ্ছি। পাহারা না দিলে চুরি হয়ে যেতো। তবে ভেতরের যন্ত্রপাতি কী অবস্থায় আছে, তা আমাদের দেখার সুযোগ নেই। কারণ কারখানার মূল গেটে তালা।’ সম্পাদনা: এ আর শাকিল

প্রতিনিধি/এআরএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়