শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১২:৫৬ রাত
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১২:৫৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষে আশার আলো দেখছেন আলমগীর

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বাগানজুড়ে সবুজ পাতার মাঝে  ছেয়ে আছে হলদে সুস্বাদু রসালো মৌসুমী ফল কমলা। সমস্ত বাগানে একেকটি গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে রসে টই টম্বুর কমলা যা বাস্তবে দেখতে অন্যরকম এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার দুলালপুর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে কমলার সফল চাষ করে এমনি সাড়া ফেলেছেন চাষী আলমগীর ভুইয়া।  

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, সাইপ্রাসে থাকাকালীন সময় সেখানকার কমলা বাগান দেখে আকৃষ্ট হন আলমগীর মিয়া। তিনি ২০১৮ সালে দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নেন কমলা বাগান করার। সেজন্য বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের একটি টিলায় দুই বিঘা জমি বর্গা নেন । এরপর ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে চায়না জাতের ২০০ টি  কমলার চারা এনে রোপন করেন। পরবর্তী বাগানে  ১৮০টি চারা ফলনযোগ্য হয়ে উঠে। স্বাদে ও গুণে অনন্য হওয়ায় আশপাশসহ জেলা বিভিন্ন স্হান থেকে পাইকার ও  ক্রেতারা ভীড় করেন তার বাগানে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার পাশাপাশি গাছ দেখতে আসা লোকজন কিনে নেন বিষমুক্ত তাজা কমলা ফল। প্রতি কেজি কমলা বিক্রী হচ্ছে ২শ টাকা দরে। প্রতিদিন ২/৩শ কেজি কমলা বিক্রী হয়। অনেকে মনে করেন আলমগীরের সফলতা বেকার যুবকদের আলো দিশারি হয়ে কাজ করবে। 

বাগানে ঘুরতে আসা শরীফ মিয়া বলেন, এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক আলমগীর মিয়া। নিজের চোঁখে না দেখলে অনেকে বিশ্বাস করতে পারবেনা কমলা বাগানের সৌন্দর্য। নিজের হাতে গাছ থেকে টাটকা কমলা পারলাম ৩ কেজির মত। দামেও তুলনামূলক সস্তা। 

সুমায়া নামে আরেক দর্শনার্থী জানান,বাচাদের নিয়ে জেলা শহর থেকে এসেছি কমলার বাগান দেখতে। বেশ সুন্দর লাগছে, সবুজ পাতার মাঝে হলুদের সমাহার। পরিবার পরিজনের জন্য সুস্বাদু কয়েক কেজি কমলা কিনে নিয়েছে। বাগানের পরিবেশটা আমাকে মুগ্ব করেছে।  

বাগান মালিক আলমগীর মিয়া বলেন, প্রথম দুই বছর বাগানে শতভাগ ফলন না এলেও গত বছর থেকে পুরোদমে ফলন আসতে শুরু করে। প্রথম দফায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে পৌণে পাঁচ লাখ টাকার কমলা বিক্রী করেন। তবে চলতি মওসুমে ফলন এসেছে দ্বিগুনেরও বেশী। এবার ৩ লাখ টাকা খরচ করে যে ফলন এসেছে তাতে মিলবে ১০/১২ লাখ টাকা। এছাড়াও কমলা চাষে সফল হওয়ায় আমি আরোও  নতুন করে আরো ৩ বিঘা জমি নিয়ে শুরু করেছি কেনু কমলা আর মাল্টার চাষ।

বিজয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শাব্বির আহমেদ বলেন, আলমগীর মিয়ার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন অনেকেই কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কমলার আবাদ বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোক্তাদের দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সহায়তা। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়