শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৭:০৪ বিকাল
আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৭:০৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লেখাপড়ার পাশাপাশি সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী আরমান

সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী আরমান

বেলাব(নরসিংদী) প্রতিনিধি: পড়াশোনার পাশাপাশি পুরাতন বহ্মপুত্র নদীর চরে সবজি চাষ করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা এনেছেন নরসিংদীর বেলাবরের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আরমান হাসান। বেলাব উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ শুরু করেন মুহাম্মদ আরমান হাসান। সবজি বিক্রি করে চলতি মৌসুমে তাঁর আয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি।

মুহাম্মদ আরমান হাসান বেলাব উপজেলা বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের চর কাশিম নগর গ্রামের মোঃ মোতাহার হোসেন (মুক্তার) মিয়ার ছেলে। মোঃ মোতাহার হোসেন (মুক্তার) মিয়ার এক মেয়ে ও ছয় ছেলে নিয়ে সংসার। মেয়ে বিয়ে দিয়েছে। বড় ছেলে মোঃ রুমান মিয়া মালয়েশিয়া প্রভাসী আর বাকি ৫ ছেলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে।  বড় ভাই রুমান বিদেশ থেকে তেমন টাকা পয়সা দিতে পারে না। বাবা ও বড় ভাইয়ের রোজকারে টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই পড়াশোনা পাশাপাশি বাবার সাথে পরিবারের হাল ধরেন শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আরমান হাসান। জমিতে শুরু করেন বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ।

আজ বুধবার সবজী চাষ নিয়ে কথা বলেন মুহাম্মদ আরমান । তিনি মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। চলতি বছরে ৮০ শতাংশে জমিতে ফুলকপি, ৪০ শতাংশে জমিতে বাঁধাকপি, ৫০ শতাংশে জমিতে লাউ, ৪০ শতাংশে মিষ্টি কুমড়া, ৪০ শতাংশে শসা, ৩০ শতাংশে টমেটো, ২০ শতাংশে পুইশাক, ২০ শতাংশে ঢ্যাঁড়স, ২০  শতাংশে শিম, ২০ শতাংশে গোলআলু, ১০ শতাংশে মুলা, ১০ শতাংশে মরিচ চাষ করেছেন।এগুলো চাষ করে সফলতা মুখ দেখতে শুরু করেছেন আরমান।

আরমানের বাবা মো মোতাহার হোসেন বলেন, আগে জমিতে শুধু ধান ও গম চাষ করতাম। তখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। আরমান পড়াশোনা পাশাপাশি সবজি চাষের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে আমার ছেলেরা পড়াশোনা পাশাপাশি সবজি চাষে সময় দেয়। এবার লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শিম, মুলা, গোল আলু, ফুলকপি চাষ করে লাভবান হয়েছি। খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা মত লাভ হয়েছে। এখন টমেটো ও ফুলকপি বাজারদর ভালো। সবজি চাষ করে পরিবারের ও ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছি। এখন আর সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় না। অনার্স পড়ুয়া সবজি চাষী মুহাম্মদ আরমান হাসান বলেন সবজি চাষ করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। সবজি বিক্রি করে যা লাভ হয় তার থেকে পরিবারের সব খরচ মিটানোর পর কিছু টাকা সঞ্চয় করা যায়। কৃষি অফিসের মাধ্যমে সবজি চাষের ওপর বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষন নিয়েছি। আমাদের এলাকায় দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চাষাবাদের জন্য পরামর্শের পাশাপাশি নতুন কোনো সবজির জাত এলে চাষাবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করেন।

বেলাব উপজেলা কৃষি-উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আকরাম হোসেন বলেন,আধুনিক চাষাবাদের উপরে তাদেরকে বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দিয়ে থাকি।কৃষক যাতে কম খরচে ভাল ফলন পেতে পারে এবং ভাল জাতের বীজ ফলন করার জন্য বলে থাকি।আমরা তাদের জমি পরিদর্শন করে থাকি।

বেলাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উর-রউফ-খান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে নতুন নতুন চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ এবং সহযোগিতা করতে আমরা চেষ্টা করছি।

কৃষি-উপ-সহকারী অফিসারদের দিয়ে আমরা তাদের বিভিন্ন রকমের প্রনোদনাদিয়ে থাকি। আমরা বেশির ভাগ সময়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি কৃষকরা যাতে ফসল থেকে লাভ করতে পারে।সৃজন থেকে একটু আলাদা ভাবে যেমন আগাম ও শেষের দিকে সবজির দাম সব সময় বেশি থাকে তাই সে সময় ফসল আবাদ করার জন্য বলে থাকি।

প্রতিনিধি/জেএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়