আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও সামনে আসছে। সাধারণ যাত্রীদের বৈধ পণ্য তল্লাশির নামে হয়রানি করা হলেও ভারত থেকে পাসপোর্টধারীদের মাধ্যমে আনা বিদেশি মদসহ অবৈধ পণ্য কাস্টমসের তল্লাশি পেরিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কাস্টমসের ছাড়পত্র নিয়ে বের হওয়ার পথে বিজিবির হাতে মদ আটকের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে কাস্টমসের সুপার রাজিবের নাম উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সাধারণ যাত্রীদের সামান্য কেনাকাটার পণ্য নিয়েও নানা অজুহাতে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পণ্য আটকে রাখা বা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।
জানা গেছে, ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর পর সাম্প্রতিক সময়ে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক চিকিৎসার জন্য ভারতে যাতায়াত করেন। ফেরার পথে অনেকেই পরিবারের ব্যবহারের জন্য শাড়ি, মসলা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে আসেন।
ভারত থেকে ফিরে আসা পাসপোর্টধারী যাত্রী আকবার হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর সঙ্গে দুটি শাড়ি, এক কেজি জিরা ও দুটি সোনপাপড়ি ছিল। এসব পণ্যের জন্য কাস্টমসের সিপাইরা তাঁর কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন বলে তিনি জানান।
আকবার হোসেনের ভাষ্য, বিষয়টি তিনি পাশে বসে থাকা সুপার রাজিবকে জানান। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সুপার এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেননি। সাধারণ যাত্রীদের সামান্য কেনাকাটার পণ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও মদসহ অবৈধ পণ্য কীভাবে কাস্টমসের তল্লাশি পেরিয়ে বের হয়, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ ঘটনায় কাস্টমসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট সময়ের তল্লাশি কার্যক্রম যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে কাস্টমস কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালনকালেও সুপার রাজিবের বিরুদ্ধে ঘুষের দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে থাকা সামান্য কেনাকাটার পণ্য নিয়েও কাস্টমসের পক্ষ থেকে নানা আইনের কথা বলে হয়রানি করা হয়। অথচ বিদেশি মদ ছাড়ার অভিযোগ উঠছে। তাঁর দাবি, সুপার রাজিব যোগদানের পর থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রথমে সুপার রাজিবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে এড়িয়ে যান।