ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফনের কাপড় পরে হাতে অস্ত্র নিয়ে শহরের প্রধান সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় মহড়া দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পী। তাঁর নিজ বাড়ি থেকে ঈশ্বরদী থানা পর্যন্ত এ মহড়া চলে।
এ ঘটনায় ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে এমন মহড়ায় শহরজুড়ে কানাঘুষা শুরু হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী থানা ফটকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বাপ্পী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাসস্থান থেকে মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় পরে বাপ্পী মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানাতে প্রকাশ্যে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে থানা ফটকে অবস্থান নেন। পরে অস্ত্র হাতে তাঁর মহড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে শহরজুড়ে কানাঘুষা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা থানা ফটকে অবস্থান নেন। তাঁরা বাপ্পী ও হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনিসহ থানা ফটকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন বলেন, কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বাপ্পী বারবার হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। আজ প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তিনি পুরো শহরে আতঙ্ক তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রতিপক্ষের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই বাপ্পী এ অস্ত্রের মহড়া দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় জুবায়ের হোসেন বাপ্পী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।