মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক সহজ-সরল নিরপরাধ কিশোরকে মারধর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চোর’ হিসেবে উপস্থাপন করে ভিডিও তৈরি ও প্রচারের অভিযোগ উঠেছে এক চানাচুর বিক্রেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়ার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং অভিযুক্ত হকার সুজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ছেলেটার নাম নিরব (ছদ্মনাম) পিংনা ইউনিয়নের হাটখোলা এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। বাবা-মা উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন। তার বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।
কয়েক বছর আগে তার মা স্ট্রোক করে মারা যান এবং পরবর্তীতে তার বাবাও মারা যায়। বর্তমানে সে বৈমাত্রেয় মা ও আত্মীয় স্বজনদের তত্ত্বাবধানে থেকে পড়াশোনা করছে। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সম্প্রতি নিরব এক প্রতিবন্ধী কিশোরের সঙ্গে ট্রেনে শহীদনগর স্টেশন থেকে ইব্রাহীমাবাদ রেল স্টেশনে ভ্রমণে যায়। এ সময় ট্রেনে চানাচুর বিক্রি করা হকার সুজনের সাথে পূর্বপরিচিত থাকায় নিরবকে ব্যবহার করে একটি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে। পরবর্তীতে ভিডিওটিতে নিরবকে টাকা চোর হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসলে সহজ-সরল ছেলেকে চোর বানিয়ে ভিডিও করার অপরাধে হকার সুজনকে গ্রেপ্তারের দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠে। এছাড়াও ভিডিও ধারণের সময় কিশোর নিরবকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও তাকে মারধর করা হয়। যার ফলে তার ঠোঁট ফেটে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে নিরবের এলাকার লোকজন সরিষাবাড়ী থানায় যান এবং পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্ত হকার সুজনের বাড়িতে উপস্থিত হন। যদিও জানা যায় অভিযুক্ত হকার সুজন বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চাইলেও নিরীহ ও অসহায় এক কিশোরের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপরাধে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তা মেনে নেননি। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের আওতায় নয়। এটা ট্রেনের ঘটনা তাই রেলওয়ে পুলিশ বা জিআরপি বলতে পারবে।
এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি সরিষাবাড়ী থানার ওসির মাধ্যমে জানতে পারি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি জানার পর কোন ট্রেন ও কোন জায়গার ঘটনা সেটা তদন্তের জন্য সরিষাবাড়ী ও টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশকে বলা হয়েছে।