ইফতেখার আলম বিশাল : রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ধরমপুর এলাকায় গৃহবধূ মোসাঃ ঋতু খাতুন রিয়া (২২)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। রিয়ার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং প্রধান আসামি তার স্বামী মিজানুর রহমান মিজানের ফাঁসির দাবিতে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে বিনোদপুর বাজার এলাকায় স্থানীয় জনতা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, ঋতু খাতুন রিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের চাপ এবং স্বামীর পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে রিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে মতিহার থানার ডাঁশমারী মধ্যপাড়া এলাকার শিলা দম্পতির একমাত্র মেয়ে মোসাঃ ঋতু খাতুন রিয়ার সঙ্গে ধরমপুর (সোরাফানের মোড়) এলাকার মিজানুর রহমান মিজানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথমদিকে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক ও জুয়ার আসক্তিকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের মায়ের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় রিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো এবং বাবার বাড়ির জায়গা-জমি বিক্রি করে টাকা আনার জন্যও হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না আনলে তাকে সংসারে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও ভয়ভীতি দেখানো হতো।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রিয়া তার মাকে ফোন করেছিলেন। তবে ঘুমিয়ে থাকায় তিনি ফোনটি রিসিভ করতে পারেননি। পরে রাতেই বিবাদীপক্ষের লোকজন এসে রিয়ার মৃত্যুর খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়ার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে মতিহার থানায় স্বামী মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।