চরভদ্রাসন এবং সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা এলাকায় পদ্মা নদীর বিভিন্ন পাড়ে বেকু মেশিন দিয়ে গভীরভাবে মাটি ও বালু খনন করে রাতভর ট্রাকে ট্রাক পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিসি ব্লক বাঁধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আরজখার ডাঙ্গী গ্রামে প্রধান পাকা সড়কের ঢাল ঘেঁষে বিশাল আকারে মাটি কেটে পুকুর সদৃশ গর্ত তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি জুলহাস সিকদার ওরফে জুলু মেম্বার (৫০) এসব মাটি বিক্রি করেছেন। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে মাটি অপসারণের ফলে বর্ষায় সড়ক ধসে পড়া এবং পদ্মা পাড়ের সিসি ব্লক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রবিবার দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুলহাস সিকদার দাবি করেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেকে পদ্মা ও ভুবনেশ্বর নদের পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, “উপজেলার বিএনপি নেতা দীপু খানসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে নদীপাড়ের মাটি কেটে শত শত ট্রাকে বিক্রি করছেন। শুধু আমার দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভুবনেশ্বর নদ খননের সময় উত্তোলিত মাটিও বিভিন্ন সময় বিক্রি করা হয়েছে এবং বর্তমানে খাল খনন কর্মসূচির নতুন মাটি বিক্রির চেষ্টাও চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “আরজখার ডাঙ্গী গ্রামে পদ্মা পাড়ে মাটি কাটার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না গেলেও বেকু মেশিনের কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন বলেন, “কিছু ব্যক্তি গভীর রাতে পদ্মা পাড় থেকে মাটি কেটে পাচার করে থাকে। রাতে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হয়। তবে জুলু মেম্বার প্রশাসনের কাছে আর মাটি কাটবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি পদ্মা পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করা অনেকের প্রধান ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের অভিযান কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও পরে আবারও শুরু হয় মাটি পাচার।
আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা শেখ সোবহান আক্ষেপ করে বলেন, “এ বছর যেভাবে মাসের পর মাস পদ্মা পাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হয়েছে, তাতে বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। আমরা বহুবার ভাঙনের শিকার হয়ে এখানে বাড়ি করেছি। এখন আবার সব হারানোর শঙ্কায় আছি।”
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা নিজামদ্দিন শেখ বলেন, “এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পদ্মা রক্ষা বাঁধ। এখন যদি মাটি কাটার কারণে সেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পুরো এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত মাটি কাটা ও পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের নদী ভাঙন ও জনদুর্ভোগ দেখা দিতে পারে।