শিরোনাম
◈ শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা ◈ বাংলাদেশকে রাফাল শিকারী জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের সিমুলেটর হস্তান্তর পাকিস্তানের ◈ কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুরে তারেক রহমান, মহাসড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের ভিড় ◈ ভাইরাল সেই ভিডিওতে ট্রাম্প কি সত্যিই চীনা প্রেসিডেন্টের নোটবুকে উঁকি দিয়েছিলেন? ◈ তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের ◈ মিড-ডে মিলে পচা খাবার বিতরণে কঠোর হুঁশিয়ারি, অনিয়মে বিভাগীয় মামলার নির্দেশ ◈ স্বাভাবিকভাবে পাকা আম চেনার ৫টি উপায় গুলো জানুন কি কি ◈ মার্কিন গ্যাস স্টেশনের সিস্টেমে সাইবার হামলা, সন্দেহের তীর ইরানের দিকে! ◈ হরমুজ বাইপাস করে তেল রপ্তানি দ্বিগুণ করতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত! ◈ সংক‌টে পড়‌তে যা‌চ্ছে ভার‌তের স‌ঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি?

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬, ০৬:৩০ বিকাল
আপডেট : ১৬ মে, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত মজুদে স্থিতিশীল মসলার পাইকারি বাজার, দামে নৈরাজ্য খুচরায়

অনুজ দেব বাপু, চট্টগ্রাম : ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে এবার মসলার বাজারে সরবরাহ সংকট নেই। স্থিতিশীল রয়েছে বেশিরভাগ মসলার দাম। কিন্তু পাইকারির কোনো প্রভাব নেই খুচরা বাজারে বরং দাম নিয়ে চলছে এক ধরণের নৈরাজ্য। বাজারের এরকম বৈপরীত্যে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। এদিকে বেশিরভাগ মসলার দাম স্থিতিশীল থাকলেও গত কয়েকদিনে সরবরাহ সংকট ও বাড়তি গাড়ি ভাড়ার অজুহাতে পাইকারি বাজারে কিছুটা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।  তবে আদা ও রসুনের দাম কমেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহে কোনো সংকট নেই। বিশ্ববাজারে মসলা পণ্যের দাম কমায় এবার মসলার আমদানি বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে এসেছে পর্যাপ্ত মসলা। আমদানিকারকদের গুদামে কোরবানির চাহিদার তুলনায় এলাচ, দারুচিনি ও জিরার রয়েছে পর্যাপ্ত মজুদ। একারণে অন্যান্য বছর অস্থিরতা দেখা গেলেও এবার কোরবানি ঈদের আগে চড়া হয়নি মসলার বাজার। এসব পণ্যের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দাম বাড়ার সম্ভাবনাও কম। কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই খুচরা বাজারে। কোনো তদারকি না থাকায় ক্রেতারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সুতরাং খুচরা ব্যবসায়ীরা যদি এসব পণ্যের দাম বাড়ায় সেটা সঠিক হবে না।

নগরীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে অস্থির হয়ে পড়েছে মসলার বাজার। কোনো কোনো বাজারে বা নগরীর অলিগলিতে দেড়গুণ বা দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে অপরিহার্য কিছু মসলা। পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা দরের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। খাতুনগঞ্জে কেজি প্রতি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়া এলাচ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাইকারির চেয়ে খুচরায় প্রতি কেজিতে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলাচ। পাইকারিতে ৮৫০ টাকা বিক্রি হওয়া জিরা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। পাইকারিতে ৩৫০-৪৪০ টাকা বিক্রি হওয়া দারুচিনি খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। পাইকারিতে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া জায়ফল খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। পাইকারিতে ১ হাজার ২০ টাকা বিক্রি হওয়া গোল মরিচ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। একইভাবে পাইকারিতে ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া হলুদ খুচরায় ৩০০ এবং ২৩০ টাকার শুকনা মরিচ খুচরায় ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাইকারিতে ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি রসুন খুচরায় ১৬০, ৯০-১০০ টাকার আদা ১৬০, পাইকারিতে ২০-২৮  বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ খুচরায় ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিমত, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কেবল তদারকির অভাবে খুচরা পর্যায়ে দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে কঠোর বাজার মনিটরিং প্রয়োজন হলেও তা হচ্ছে না।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস ‘আমাদেরসময়ডটকম’কে বলেন, এবার ঈদুল আজহার আগে বেশিরভাগ মসলা পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গত কয়েকদিনে পেঁয়াজের দাম ৪-৫ টাকা বেড়েছে। নতুন আসা দেশীয় এ পেঁয়াজের মান আগের চেয়ে ভালো। এছাড়া রসুন ও আদা কয়েক টাকা বাড়লেও সোমবার থেকে আবার ৫-১০ টাকা কমে গেছে। মূলত সরবরাহ কম ও জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ায় এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে। গত কয়েকদিনে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম উঠানামা করলেও কোরবানকে সামনে রেখে খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। বেশিরভাগ মসলার ভালো মজুদ থাকায় কোরবানে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, একটা সময় বড়রা মানে পাইকারিতে দাম বাড়তো। বিষয়টা হলো বড়রা যেহেতু বেশি মুনাফা করছে, ছোটরা সেটাকেই অনুসরণ করছে। কারণ দাম বাড়ালেই তো তাদের লাভ। যেহেতু কোনো দিক থেকে তদারকি নেই, তাই যে যেভাবে পারছে ক্রেতাদের পকেট কাটছে। কোরবানকে উপলক্ষ করে মসলার দাম বাড়ার এ প্রতিযোগিতায় শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও তো ভিকটিম। এক্ষত্রে সরকারকে আরও কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়