মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তথ্য সংগ্রহ অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন র্যাবের তিন সদস্য। হামলার পর তাঁদের প্রায় চার ঘণ্টা একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের বলিয়ারা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত র্যাব সদস্যরা হলেন হাবিলদার এ কে এম রাশেদ মোশারফ (বিজিবি), কনস্টেবল মো. কাজল মিয়া এবং কনস্টেবল মো. আব্দুল মালেক। তাঁরা র্যাব-৯–এর গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঞ্ছারামপুরের দুর্গারামপুর সেতুর পূর্ব পাশে তথ্য সংগ্রহ অভিযানে যাওয়ার পথে র্যাবের চার সদস্য সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে খাগাতুয়া-মাঝিয়ারা সড়ক ব্যবহার করেন। খাগাতুয়া গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী সফিক ডাকাত ওরফে চোরা সফিক এবং তাঁর সহযোগীরা তাঁদের গতিরোধ করেন।
র্যাবের ভাষ্য, সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় অভিযানে থাকা সার্জেন্ট ফারুক ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাকি তিন সদস্যকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে তাঁদের একটি বাড়িতে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে র্যাব-৯–এর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। পরে পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ তিন সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অভিযানে চোরা সফিকের অন্যতম সহযোগী আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল কাদের (৬২), মো. রাহিম (২০), আব্দুর রহমান ওরফে অপু মিয়া (১৮), মো. নূর আলম (১৬) এবং ছানোয়ারা (৪৮)। তাঁদের সবার বাড়ি খাগাতুয়া গ্রামে। অভিযানের সময় একটি রামদা, একটি চাকু ও দুটি লোহার রড উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাব-৯ সিপিসি-১–এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নূর নবী মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, “চোরা সফিক ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, হামলা ও ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল। এ সময় সন্দেহজনকভাবে একটি সিএনজিতে থাকা চারজনকে প্রতিপক্ষের লোক ভেবে হামলা করা হয়। পরে তাঁরা নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা তাঁদের ‘ভুয়া র্যাব’ বলে দাবি করে মারধর চালায়।
স্থানীয় ভুক্তভোগী মুকুল মাস্টার ও তাঁর ভাগনে পারভেজ অভিযোগ করেন, চোরা সফিক ও তাঁর লোকজন তাঁদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন সফিক—এমন অভিযোগও করেন তাঁরা।