জামাল হোসেন খোকন, চুয়াডাঙ্গা (জীবননগর) : এক সময় শুধুমাত্র পারিবারিক চাহিদা পূরণে বসতবাড়ির আঙিনায় লাউয়ের চারা লাগানো হতো। ছোট মাচা, গাছের ডাল কিংবা ঘরের চালজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো লাউ গাছের লতাপাতা। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন বাণিজ্যিকভাবেই শুরু হয়েছে লাউ চাষ। কম খরচ, স্বল্প সময়ে ফলন এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই সবজি।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় কৃষি জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন অনেক কৃষক। বিশেষ করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা ঝুঁকছেন এ চাষে। উপজেলার উথলী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা কৌশিক রহমান দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।
সরেজমিনে তার লাউক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, মাচাজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাউ। ক্ষেত থেকে লাউ সংগ্রহ করে কার্টুনে ভর্তি করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে। প্রতিটি কার্টুনে ৩০টি করে লাউ রাখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন তিন কার্টুন লাউ বাজারজাত করছেন তিনি।
কৌশিক রহমান জানান, দেড় বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করতে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া লাউ গাছের গোড়ায় মাত্র ৫ হাজার টাকার সার ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি ময়না জাতের লাউ চাষ করেছেন। এই জাতের লাউ গাছে মাত্র ৫২ দিনের মধ্যেই ফলন শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, গত বছর অতিবৃষ্টির কারণে লোকসান গুনতে হলেও এবার ভালো ফলনের আশা করছেন। বর্তমানে প্রতিদিন তিন কার্টুন লাউ ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। কয়েকদিন পর ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি কার্টুনে প্রায় এক হাজার টাকা লাভ থাকে। ঢাকার পাইকাররা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেন।
কৌশিক রহমান বলেন, “এভাবে আরও প্রায় এক মাস লাউ বাজারজাত করা যাবে। এরপর আবার নতুন করে চারা লাগানো হবে। বাজার ভালো থাকলে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা আয় সম্ভব। অনেক ধরনের ফসল চাষ করেছি, তবে লাউ চাষ সবচেয়ে লাভজনক মনে হয়েছে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে রাসায়নিক সার ও শ্রমিক খরচ তুলনামূলক কম হয়। মাটি থেকে প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচা তৈরি করা হয় এবং তার ও সুতলি দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। একবার মাচা তৈরি করলে সেখানে টানা তিন থেকে চার বছর লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা সম্ভব।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এই চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লাউয়ের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন জাতের লাউ, পরিচর্যা ও মাচা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”