শিরোনাম
◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি 

প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২৬, ০৬:২৩ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাবিপ্রবি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে পিডি আবদুল গফুর বরখাস্ত

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উন্নয়ন প্রকল্পে ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একদিনের সাইট ভিজিটে ৭৪ হাজার ৫৯৯ টাকা খরচ দেখানো, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের টেবিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং সামান্য কাজ করেই ৩৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া, টেন্ডার কার্যক্রম, ঘুষ লেনদেন, বিল-ভাউচার জালিয়াতি, সরকারি অর্থ দ্বৈতভাবে দাবি (ডাবল ক্লেইম), প্রকল্প পরিচালনায় অদক্ষতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার এবং কোটি টাকা অপচয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, নেইমপ্লেট ও গেইট নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের ২৪ জুন প্রকৌশলীদের স্বাক্ষর ছাড়াই ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, কাজ পেতে এবং বিল উত্তোলনের জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়া হতো। কমিশন না দিলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো ঠিকাদারদের। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে কমিশন দিতেন, যার কারণে কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহৃত হতো।

সংশ্লিষ্ট জানান, চারটি ভবন নির্মাণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তদারকি থাকলেও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে আবদুল গফুর ঠিকাদারদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন এবং বিল পরিশোধে হস্তক্ষেপ করতেন। কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গেও তাঁর অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

আরও জানা যায়, একটি নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর একদিনের প্রশিক্ষণের জন্য ২৫ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয় এবং ১১ নভেম্বর তা সমন্বয় দেখানো হয়, পাশাপাশি ডিএও উত্তোলন করা হয়। অন্য একটি নথিতে দেখা গেছে, একজন কর্মচারীর নামে অগ্রিম নেওয়া হলেও তার স্বাক্ষর নেই; একই কাজে আবদুল গফুর নিজের নামেও বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং ডিএ গ্রহণ করেছেন।

সূত্র মতে, ভ্রমণ বা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের অগ্রিম নেওয়ার বিধান নেই। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা সফর ব্যক্তিগত হলেও তিনি বারবার অগ্রিম ও ডিএ গ্রহণ করেছেন এবং ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে জোরপূর্বক অগ্রিম তুলে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালকের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় আবদুল গফুরকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন না নিয়েই ভবন নির্মাণ শুরু করা হয়। অতিরিক্ত পাহাড় কাটার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা দায়ের করে।

২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপরও তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেড কাজ পরিদর্শনে এলে একদিনের ভিজিটে আবদুল গফুর নিজের নামে ৭৪ হাজার ৫৯৯ টাকা বিল করেন, যেখানে বোট ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, স্টেশনারি ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কনসালটেন্টদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে তারা নিয়মিত তদারকি না করে মাসে এক বা দুইবার আসতেন। প্রতিবারই তাদের আগমন উপলক্ষে লাখ লাখ টাকার ভুয়া খরচ দেখানো হতো।
মাস্টারপ্ল্যান সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে, প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের নামে ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২২ টাকা, প্রজেক্টের কর্মচারী মার্শাল চাকমার নামে ১৪ লাখ ৭ হাজার ৩২৮ টাকা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট নিশান চাকমার নামে ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা, সেকশন অফিসার আবদুল হকের নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা এবং মনজুরুল ইসলামের নামে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ টাকা অগ্রিম দেখিয়ে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেকের নামে স্বাক্ষর ছাড়াই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আবদুল গফুরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালতে গেলেও আদালত তাঁর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়