ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু অংশ জুড়ে বয়ে গেছে গোমতী নদী৷ নদীর দুইপাশে বছরের পুরুটা সময় কোন না কোন শাক সবজি চাষ হয়৷
এতে করে এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানান প্রান্তে যায় গোমতী নদী পাড়ের ফসল৷ এবছর মিস্টি আলু চাষ করে চমক দেখালেন সেখানকার কৃষকরা৷ গোমতী পাড়ের কৃষকরা এবার মিষ্টি আলু চাষ করে লাভবান হয়েছেন৷ ফলে নদী পারের কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে৷ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের গোমতী নদী পাড়ের কৃষকরা তাদের পরিশ্রমের ফসল মিষ্টি আলু ঘরে তুলতে ব্যাস্ত সময় পার করছে৷ মনোহরপুর গ্রামের গোমতী পাড়ের কৃষক মোঃ আবু তালেব জানান,আমি প্রতিবছর সামান্য পরিমান মিষ্টি আলুর চাষ করি৷ এ বছর ৩০ শতক জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছি৷ অন্য বছরের তুলনায় মিষ্টি আলুর ফলন অনেক ভাল হয়েছে৷ আলুর সাইজ বেশ বড়৷ বাজারে মিষ্টি আলুর ভাল দাম এবং চাহিদা রয়েছে৷
আমির ২০ শতক জমির আলু উত্তলন করে জমিতে বিক্রি করেছি প্রতি মন ১২০০ টাকা করে৷ ২০ শতক জমিতে আলু হয়েছে ৩৫ মত৷ যার বাজার মূল্য ৪২ হাজার টাকা৷ আমার ৩০ শতক জমিতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা৷ মিষ্টি আলু চাষ করে এবছর আমি খুশি৷ রামনগর এলাকার গোমতী পাড়ের মিষ্টি আলু চাষি কাদির মিয়া জানান, এবছর বেশী বৃষ্টি না হওয়ার কারনে মিষ্টি আলুর ফলন ভাল হয়েছে৷ বাজারে আলুর চাহিদা এবং দাম ভাল৷ তাই আগামীতে মিষ্টি আলু আরো বেশী চাষ হবে এলাকায়৷ কম খরচে সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং স্বল্প সময়ে বেশি ফলনে আনন্দিত চাষিরা। বিগত বছরে কিছুটা হতাশ থাকলেও এ মওসুমে হতাশা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছে গোমতী চরের মিষ্টি আলু চাষিরা৷ ধান, ভুট্টাসহ রবি ফসল উৎপাদন বেড়েছে অধিক হারে। তাই শুকনো মওসুমে অন্য ফসলের মধ্যে মিষ্টি আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে এলাকার জমির মালিক ও বর্গা চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মতিন জানান, এবছর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু চাষ আমাদের লক্ষ্য মাত্রাছিল৷ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৯৫ হেক্টর জমিতে অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী চাষ হয়েছে৷
আবহাওয়া চাষিদের অনুকূলে থাকায় ফলন অনেকটাই ভালো হয়েছে। তাছাড়াও বাজারে মিষ্টি আলুর চাহিদা প্রচুর। মিষ্টি আলু চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা কৃষি বিভাগ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে৷